এক সমীক্ষা অনুযায়ী দেখা গেছে যে, ২০০০ সালের শুরু থেকে প্রতিবছর ১৫ থেকে ১৭ মিলিয়ন লোক মারা যায় হৃৎপিণ্ড ও রক্তনালিজনিত অসুখের কারণে। হৃৎপিণ্ডের রক্তনালি এবং মস্তিষ্কের স্ট্রোক জনিত কারণে মৃত্যুর হার ক্যানসার, এইচআইভি-এইডস ও ম্যালেরিয়া থেকে অনেক বেশি। বর্তমানে ৩০ শতাংশ মৃত্যুর কারণ ধরা হয় এই হৃদ্‌রোগ ও রক্তনালি জনিত রোগের কারণে এবং অল্প বয়সে ৮০ শতাংশের মৃত্যুর কারণও কিন্তু এ হৃদ্‌রোগকে দায়ী করা হয়ে থাকে।

হার্ট অ্যাটাক বা হৃদরোগ একটি খুবই মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ রোগ, জার ফলে জীবন ও মৃত্যু অনেক কাছাকাছি চলে আসে। এই হৃদরোগ সাধারণত বয়স্ক মানুষদের হয়ে থাকে। বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে দেখা গেছে যে, ৬০ থেকে ৭০ বছর বয়সী মানুষের এই রোগটি হয়ে থাকে। আবার আমাদের দেশেও ৫০ থেকে ৬০ বছর বয়সী ব্যক্তিদের এটি হয়ে থাকে। বর্তমানে ৪০ থেকে ৫০ বছর বয়সী, এমনকি ২৫-৩০ বছর বয়সী ব্যক্তিরাও এই হার্ট অ্যাটাক রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন। যার অন্যতম কারণ হল স্বাস্থ্যসম্মত খাবার না খাওয়া, ধূমপান ও তামাকজাতীয় দ্রব্য সেবন, এছাড়া নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রম না করা ও অ্যালকোহল পান করা। আর বর্তমানে আমাদের দেশে ধূমপান ও অ্যালকোহল যেন একটি নিত্য প্রয়োজনীয় খাবারে পরিনত হয়েছে। যার ফলে আমাদের দেশে এই রোগটি এখন কম বয়স্ক ব্যাক্তিদের মধ্যে দেখা দিচ্ছে।

হৃদরোগের লক্ষণঃ

এই হৃদ্‌রোগের প্রাথমিক লক্ষণ হলো শ্বাস কষ্ট হওয়া, অনিয়ন্ত্রিত ভাবে হৃৎস্পন্দন হওয়া ইত্যাদি। এনজাইমা একটি হৃদরোগ। এই রোগের ফলে রোগীর সাধারণত বুকে ব্যথা বা বুকে চাপ অনুভব হয়, বুক ভার ভার মনে হয়, আবার দম বন্ধ হয়ে আসার উপক্রম হয় ইত্যাদি।

আবার কারও কারোও করোনারি আর্টারি বা হার্টের রক্তনালির ৭০ শতাংশ ব্লক হয়ে গেলে তখনই এনজাইনা হয়ে থাকে। আর এই এনজাইনা থেকে কখনও কখনও হার্ট অ্যাটাকও হয়। করোনারি ধমনী যখন ১০০ শতাংশ ব্লক হয়ে যায়, তখন হার্ট অ্যাটাক হয়। আবার অনিয়মিত হৃৎস্পন্দনের ফলেও হার্ট অ্যাটাক হয়।

এ ছাড়া আমাদের দেশে দুর্বল হার্ট বা কার্ডিওমায়োপ্যাথি একটি পরিচিত হৃদ্‌রোগ, যেখানে হার্টের কার্যক্ষমতা কমে যায়। বাতজ্বরজনিত হৃদ্‌রোগ আমাদের দেশে আরেকটি বড় সমস্যা। সাধারণত ছোটবেলায় এই বাতজ্বর থেকে পরবর্তী সময়ে বাতজ্বরজনিত হৃদ্‌রোগে পরিনত হয়। বাতজ্বরজনিত রোগে সাধারণত হার্টের ভালভ গুলি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তার মধ্যে কিছু রোগ ডাক্তারি চিকিৎসার মাধ্যমে ভালো করা যায়। আবার কিছু রোগকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে হয়। আর যদি সময়মতো এই রোগের চিকিৎসা করা না হয়, তাহলে পরবর্তী সময়ে শল্যচিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হয়।

হৃদরোগের কারনঃ

হৃদ্‌রোগের গুরুত্বপূর্ণ কারণের মধ্যে হল, যদি কারও পরিবারে ডায়াবেটিস, হৃদ্‌রোগ, উচ্চ রক্তচাপ বা শিশুর জন্মগত হৃদ্‌রোগ থাকে, তবে এই ক্ষেত্রে ঝুঁকি কমানোর জন্য কিছু করার থাকে না।

হৃদরোগের ঝুঁকি কমানোর উপায়ঃ

হৃদ্‌রোগের ঝুঁকি কমাতে আমাদের কিছু নিয়ম নীতি মেনে চলতে হবে। তার জন্য স্বাস্থ্যকর খাদ্য খাওয়ার পাশাপাশি ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপ যেন না হয় সেদিকে সতর্ক থাকতে হবে। শিশুদের সর্বদা জাঙ্ক ফুড খাওয়ানো থেকে বিরত থাকতে হবে। হৃদ্‌রোগ প্রতিরোধের জন্য সামান্য পরিশ্রম করা, সাইকেল চালানো, হাঁটা চলা করা, পুকুরে সাঁতার কাটা, ওজন নিয়ন্ত্রণ রাখা, ধূমপান ও অ্যালকোহল থেকে বিরত থাকা ও স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়া ইত্যাদি। এই নিয়ম মেনে চললে হৃদ্‌রোগের ঝুঁকি অনেকাংশে কমে যাওয়ার সম্ভবনা থাকে।

Please follow and like us:
error