সৌরভ হোসেন সোহাগ: কুমিল্লায় অষ্টম শ্রেণির এক ছাত্রীকে গত আড়াই বছর ধরে ধষর্ণের অভিযোগ উঠেছে তার সৎ বাবার বিরুদ্ধে। কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলার এ ঘটনায় নিজের মায়ের যোগসাজশ রয়েছে বলে জানান ভুক্তভোগী ওই মেয়ে।

এদিকে ঘটনা জানাজানির পর আজ শুক্রবার সকাল থেকেই এলাকার লোকজন বিচারের দাবিতে বিক্ষোভ করছেন।

ওই বাবার নাম জাকির হোসেন। তিনি মুরাদনগর থানার গোকল নগর এলাকার বাসিন্দা। কিন্তু গত ১০ বছর ধরে তিনি দ্বেবিদার এলাকায় শ্বশুরবাড়িতে বসবাস করে আসছিলেন। জাকির হোসেন পেশায় একজন গাড়িচালক।

স্থানীয়রা জানান, জাকির হোসেনের শ্যালিকা মর্জিনা বেগমের বিয়ে হয় উপজেলার ইউসুফপুর ইউনিয়নে শিবপুর গ্রামে। গত ১০ বছর আগে জাকির তার শ্যালিকার বাড়িতে বেড়াতে গিয়ে তার সঙ্গে আপত্তিকর অবস্থায় ধরা পড়েন। এ ঘটনায় মর্জিনা বেগমকে তার স্বামী তালাক দেন। এরপর মর্জিনা তার দুই ছেলে ও দুই মেয়ের মধ্য থেকে বড় মেয়েকে নিয়ে বাবার বাড়ি দেবিদ্বারে চলে আসেন।

এ ঘটনার পর জাকির হোসেন তার শ্যালিকাকে বিয়ে করেন। কিন্তু জাকিরের পরিবার এই বিয়ে মেনে না নেওয়া তিনি শ্বশুরবাড়ি দ্বেবিদারে বসবাস শুরু করেন। আর এই সুযোগে গত আড়াই বছর ধরে জাকির তার সৎ মেয়েকে নিয়মিত ধর্ষণ করে আসছেন। এদিকে তার প্রথম স্ত্রী মর্জিনার বড় বোন জাকিরের বাবার বাড়িতে থাকেন।

ভুক্তভোগী ওই স্কুলছাত্রী জানায়, ঘুমের ওষুধ খাওয়ানোর পর তাকে ধর্ষণ করা হয়। পরে এ ঘটনার ভিডিও মুঠোফোনে ধারণ করে তাকে ভয়-ভীতি দেখিয়ে একাধিকবার ধর্ষণ করে তার সৎ বাবা। এমনকি এ ঘটনায় তার মায়ের সহযোগিতায় রয়েছে। বাবার এই জঘন্য এ কাজে বাধা দিলে তার মা অনেক গালিগালাজ এবং মারধর করতো।

এমন জঘন্য ঘটনায় মেয়ে মর্জিনা বেগমকে নিজের মেয়ে হিসেবে অস্বীকার করে ভুক্তভোগীর নানা বলেন, নিজের মা হয়ে এ কাজ করবে ভাবতেই পারছি না। আমি এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই।

এ বিষয়ে দেবিদ্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জহিরুল আনোয়ার বলেন, ‘এ বিষয় এখন পর্যন্ত কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। তবে অভিযোগ পেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’