নাইমের কাছে কেন প্রয়োজন থাকা সত্ত্বেও সে নিজে পাঁচ হাজার ডলারের অর্থসাহায্য না নিয়ে এতিমদের দিয়ে দিতে চায় প্রশ্ন করা হলে সে জানায়, সাক্ষাৎকারে ওই কথা সে না বুঝে বলেছে। এমনটি বলতে তাকে শিখিয়ে দেওয়া হয়েছিল। শিশুটিকে যখন জানানো হয়, যে ব্যক্তিটি তাকে অর্থসাহায্য করতে চেয়েছিল তিনি এখন আর তা করতে চাচ্ছেন না। এরপরও সে কি টাকাটা চায় কিনা? এর উত্তরে নাইম জানায়, আমি টাকা চাই, আমার পড়াশোনার জন্য টাকা চাই। এতিমখানায় টাকা দেওয়ার কারণ সম্পর্কে জানতে চাইলে নাইম জানায় যে, কয়েক বছর আগে খালেদা জিয়া এতিমের টাকা লুট করে খেয়েছেন। তাই এই টাকা সে এতিমদের দিতে চায়। জয়ের সাক্ষাৎকার নেওয়ার সময় নাইমের সঙ্গে আরও উপস্থিত ছিলেন তার মা-বাবা। নাইম যে পুরস্কারের  টাকা এতিমখানার অনাথ শিশুদের জন্য দান করে দিতে চায় এই উত্তরের সঙ্গে তখন দ্বিমত জানাননি তার মা-বাবা। তবে এরপর শিশুটির মার কাছে অর্থসাহায্যের টাকার বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে তিনি জানান, নাইম ছোট শিশু, এজন্য না বুঝেই সে এসব বলেছে। আমি গরিব মানুষ, টাকাটা দরকার। সে টাকা অন্যদের দিলে নাইমকে আমি কীভাবে মানুষ করব। তবে শিশুটিকে জয়ের এ ধরনের প্রশ্ন করার বিষয়টিকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে ফেসবুকে বেশ সমালোচনা হচ্ছে। অনেকে বলছে ছোট শিশুটির এ ধরনের কথা বলার কথা না। সাক্ষাৎকার অনুষ্ঠানটির সঙ্গে জড়িত কেউ হয়তো তাকে কথাগুলো শিখিয়ে দিয়েছে। আর শিশুটিও সর্বশেষ এক সাক্ষাৎকারে তাকে যে এই উত্তর শিখিয়ে দেওয়া হয়েছিল তা স্বীকার করে নেয়। যদিও এরই মধ্যে নাইমকে সাহায্য দেওয়ার জন্য প্রতিশ্রুতি দেওয়া সেই প্রবাসী ব্যক্তি শিশুটি রাজনীতির শিকার হয়েছে এ জন্য আর অর্থসাহায্য করতে চান না বলে বিভিন্ন মাধ্যমে গুঞ্জন উঠেছে। এরই মধ্যে উপস্থাপক জয়ের কাছে বিষয়টি নিয়ে গতকাল বেশ কয়েকবার বাংলাদেশ প্রতিদিন থেকে তার মোবাইলে ফোন ও এসএমএস দেওয়া হলেও তিনি এর কোনো সাড়া দেননি। যদিও ২ এপ্রিল ভোররাতে শাহরিয়ার নাজিম জয় এক ভিডিও বার্তায় জানান, নাইমকে তিনি কোনো কথা শিখিয়ে দেননি। শিশুটি যে বক্তব্য দিয়েছে তা সে কোথা থেকে শিখে এসেছে তা তিনি জানেন না। তিনি আরও জানান, কোনো জাতীয় নেতা নিয়ে মন্তব্য করার সাহস তার নেই। আমি বিশেষ দলের সমর্থক হতে পারি। কিন্তু কোনো দল দিয়ে কটূক্তি করার অধিকার রাখি না।