জামাল হোসেন লিটু: সময়ের পালাবদলে পৃথিবীর রং পাল্টায়। পাল্টায় মানুষের চিন্তা-চেতনার অনুভূতির রংও। কিন্তু আশ্চর্য হই তখনি যখন পৃথিবীর সব দেশের, সব ভাষার, সব বর্ণের মায়েদের অনুভূতি কখনো বদলায় না। সন্তান যদি খুনও করে তাহলে মা তাকে পরম আশ্রয়ে লুকিয়ে রাখার চেষ্টা করে। সন্তানের নানা আবদার শুধুমাত্র মায়ের কাছেই। মহান সৃষ্টি কর্তার একটি বড় নেয়ামত হচ্ছে মা। আমরা যতই বড় হই না কেন একটু হাজারো যন্ত্রণা অশান্তির মাঝে মায়ের কাছেই প্রশান্তির শীতল ছায়া। মাকে নিয়ে কবি-সাহিত্যিকরা অনেক বিখ্যাত কবিতা লিখেছেন, গান লিখেছেন যেগুলোর আবেদন সবসময় আমাদের আবেগতাড়িত করে। আমার মা। আমার পৃথিবী। আমার জীবনের আদর্শ। খুব ভালোবাসেন তিনি।
সবার কাছেই মায়ের চেয়ে আপন কেউ নেই। সেই মায়ের জন্য আমরা সন্তানরা কতটুকু পূরণ করতে পারি? আমরা কি স্নেহময়ী মায়ের সঙ্গে কিছু সময়ের জন্য হলেও প্রাণ খুলে কথা বলি? সারাদিনের কর্ম ব্যস্ততায় কতজন একবার হলেও খোঁজ নেই বাসায় আমাদের মায়েরা কেমন আছেন? কি করছেন? তাদের নিয়ে সপ্তাহে একদিন কিংবা মাসে একদিন অথবা বছরে একদিন কোথাও কি ঘুরতে বের হই? ভালো কোথাও খেতে যাই? আমাদের মায়েরা আমাদের কাছে সত্যিই কি কিছু প্রত্যাশা করেন? নাকি শুধু নীরবেই তার সন্তানদের জন্য ভালো থাকার প্রার্থনায় নিমগ্ন থাকেন। আমাদের সমাজের বাস্তবতা অনেককে নিষ্ঠুর হয়ে যাচ্ছে। সন্তান তার মাকে মারধর করছে। খুন করতে দ্বিধাবোধ করছে না। স্ত্রীর মন রক্ষার্থে মার থেকে দূরেও থাকছে। অবহেলা করছে। অনেককে বাড়িতে মা তার বাসায় কাজের বুয়ার মতো কাজ করছে। মাকে বৃদ্ধাশ্রমে পাঠিয়ে দিচ্ছে। তারপর ও মায়ের কোনো অভিযোগ নেই। ক্লান্তি নেই।
পৃথিবীতে যদি একমাত্র নির্ভরতার কেউ থাকেন তিনি হলো মা। সবার কাছেই তার শ্রেষ্ঠ মা। মায়ের মাধ্যমেই পরিচয় ঘটে মাটি, মাতৃভাষা, মাতৃভূমির। মায়ের জন্য আমাদের কতটুকু ভালোবাসা থাকে যখন আমরা বড় হয়ে যাই। যখন আমাদের আলাদা আরেকটি জগৎ তৈরি হয় তখন আমাদের মায়েরা কেমন থাকেন তার নিঃসঙ্গতায় আমরা কি তা জানি?

Please follow and like us:
error