ইউসুফ সোহেল: প্রতিপক্ষ প্রার্থীর কর্মী-সমর্থকদের ওপর হামলা, ধরপাকড়, হুমকি, পোস্টার-ব্যানার ছিঁড়ে ফেলার অভিযোগের মধ্যেও জমে উঠছে ঢাকা-৫ আসনে নির্বাচনী পরিবেশ। আগে নৌকাসহ অন্যান্য প্রতীকের পোস্টার-ব্যানারে ছেয়ে গিয়েছিল ঢাকা-৫ আসনের সবকটি এলাকা। গতকাল মঙ্গলবার দেখা গেছে এর ভিন্ন চিত্র। বিভিন্ন এলাকায় ঝুলতে দেখা গেছে ধানের শীষের অসংখ্য পোস্টার-ব্যানার। কয়েকটি এলাকায় একই স্থানে পাশাপাশি ঝুলতে দেখা গেছে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী নৌকা আর ধানের শীষের পোস্টারও।বেলা ২টার দিকে যাত্রাবাড়ীর কুতুবখালী এলাকায় মারকাযুত তাহফিজ ইন্টারন্যাশনাল মাদ্রাসার সামনে থেকে বিভিন্ন এলাকা ঘুরে এমন চিত্রই চোখে পড়েছে। গতকাল দল দুটির প্রার্থী ও তাদের কর্মী-সমর্থকরা সমানতালে নির্বাচনী প্রচার চালিয়েছেন বলেও জানা গেছে।কুতুবখালী এলাকায় নৌকার পোস্টার টাঙানোর সময় বেলা সোয়া ২টার দিকে কথা হয় দনিয়া ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ড যুবলীগের সভাপতি মো. ইয়াহিয়া সালমানের সঙ্গে। ঢাকার অন্য আসনের ব্যতিক্রমী চিত্রের (পাশাপাশি ধানের শীষ ও নৌকার পোস্টার থাকা) বিষয়ে তিনি বলেন, আমরা চাই সবাই মিলে প্রচারে অংশ নিতে। কোনো বিশৃঙ্খলা চাই না আমরা। একই রকম মন্তব্য করেন একই স্থানে ধানের শীষের পোস্টার লাগানোয় ব্যস্ত থাকা যুবদল কর্মী রনিরও।জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রতীক বরাদ্দের পর থেকে প্রচারে ব্যস্ত সময় পার করছেন এই আসনের মহাজোট প্রার্থী তিনবারের সংসদ সদস্য আওয়ামী লীগ নেতা হাবিবুর রহমান মোল্লা এবং তার নেতা-কর্মী-সমর্থকরা। দিন-রাত ভোটারদের দ্বারে-দ্বারে ঘুরে উন্নয়নের নানা প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন তারা। গতকাল দুপুর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত যাত্রাবাড়ী, দনিয়া পাঠাগার এলাকা, রইসনগর; জনতাবাগ, ৫০ নম্বর ওয়ার্ড ও মাতুয়াইলের শরীফবাগ এলাকায় সভা-সমাবেশ, গণসংযোগ ও পথসভা করেন হাবিবুর রহমান মোল্লা। আওয়ামী লীগ সরকারের গত ১০ বছরের উন্নয়নমূলক কর্মকা-ের বর্ণনা দিয়ে ওইসব এলাকার হাট-বাজার ও পাড়া-মহল্লায় লিফলেট বিতরণ করেন তিনি। দেশের উন্নয়ন অব্যাহত রাখতে আরও একবার নৌকাকে জেতানোর আহ্বান জানিয়ে অসমাপ্ত কাজগুলো শেষ করারও প্রতিশ্রুতি দেন সাংসদ হাবিবুর রহমান মোল্লা।অন্যদিকে হাবিবুর রহমান মোল্লার প্রধান প্রতিপক্ষ ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী বিএনপি নেতা নবী উল্লাহ নবীর কর্মী-সমর্থকরা নানা অভিযোগ নিয়েই চালিয়ে যাচ্ছেন নির্বাচনী প্রচার। গতকাল সকাল থেকে রাত পর্যন্ত ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে তারাও ব্যস্ত ছিলেন প্রচারে। সকাল সাড়ে ১০টা থেকে ডেমরার বামুইল, বড় ভাঙা, সারুলিয়া, রাণিমহল, হাজীনগর, স্টাফকোয়ার্টারসহ কয়েকটি এলাকায় সভা-সমাবেশ, গণসংযোগ ও পথসভা করেন তিনি। নবী উল্লাহ নবী বলেন, যাত্রাবাড়ী-ডেমরা এলাকায় মিছিল-মিটিং করাকালে কোনো হামলার ঘটনা না ঘটলেও গণসংযোগ করা অবস্থায় পুলিশ ছাত্রদলের মো. হেলাল, ফারুকুজ্জামান মনজু, পারভেজ হোসেন, সাইফুল ইসলাম জনি, ফারুক হোসেন, হাসান, সজীব, আল-আমিন, শরীফসহ ছাত্রদলের আরও ৪ নেতা-কর্মীকে তুলে নিয়ে যায়। অথচ তাদের নামে আগে কোথাও কোনো মামলা বা ওয়ারেন্ট নেই। তা ছাড়া পোস্টার লাগালেই তা ছিঁড়ে ফেলা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। নবী উল্লাহ বলেন, সব মিলিয়ে নেতাকর্মীরা এক প্রকার আতঙ্কে রয়েছেন। তার পরও আমাদের মনবল শক্ত রয়েছে। সুষ্ঠু নির্বাচন হলে, জনগণ ভোট দিতে পারলে, ঢাকা-৫ আসন আমাদেরই হবে।

সূত্র: আমাদের সময়।

Please follow and like us:
error