• পুলিশের আইজি (ইন্সপেক্টর জেনারেল বা মহাপরিদর্শক) ড. মোহাম্মদ জাভেদ পাটোয়ারী বলেছেন, পুলিশ বাহিনীকে গণমানুষের কাছে গ্রহণযোগ্য ও আস্থাশীল হিসেবে গড়ে তুলতে চাই। পুলিশকে আস্থা অর্জন করতে হবে এই কারণে যে, কেউ বিপদে পড়লে প্রথমে সৃষ্টিকর্তাকে ডাকেন। এরপরই পুলিশের সহায়তা চান। পুলিশকে যেন মানুষ সেই আস্থায় নিতে পারে, সে লক্ষ্যে আমি কাজ করে যাচ্ছি।
  • আমরা বলি, পুলিশ জনগণের বন্ধু। প্রকৃত অর্থেই দেখাতে চাই, যে কোনো বিপদে বা প্রয়োজনে ডাকলেই যেন মানুষ পুলিশকে পায়। এ আস্থা অর্জনের দায়িত্ব প্রত্যেক পুলিশ সদস্যের। তাই নিজেদের সেভাবে প্রস্তুত করতে হবে। গণমানুষকে সম্মান দেখানোর মাধ্যমেই সম্মান পেতে চাই। নিরীহ-নিরপরাধ মানুষের পাশে থাকতে চাই।

পুলিশ সম্পর্কে দু’চার কথা বলেন না, এমন মানুষ পাওয়া ভার। আইন-শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ, অপরাধ প্রতিরোধ কিংবা কোন আইন-প্রয়োগকারী সংস্থায় চাকরি করা তো দূরের কথা, ফৌজদারি বিচার ব্যবস্থার কোন অংশের সাথেই সম্পর্কিত নন কিংবা কখনো ছিলেন না- এমন ব্যক্তিকেও প্রচার মাধ্যমের সামনে দাঁড় করানো হলে, তিনি আর যাই পারুন বা না পারুন, পুলিশকে দোষারোপ করে দু’চার কথা বলতে তার কোন কষ্টই হবে না। তিনি অজ্ঞতার সংকোচবোধ করবেন না। বিষয়টি এমন যে ‘ও পুলিশিং- এ আর কি! সুযোগ দিলে সবাই এ কাজ করতে পারে। তবে যারা পারে না, তারাই পুলিশের বড় বড় পদগুলো দখল করে আছেন।’ যিনি পুলিশের পদ-পদবী এমনকি দৃশ্যমান র‌্যাংক ব্যাজ পর্যণ্ত চেনেন না তিনিও একটা বিজ্ঞতাপূর্ণ মতামত দিয়ে বসবেন, পুলিশ মানেই অদক্ষ, পুলিশ মানেই ক্ষমতার অপব্যবহারকারী, পুলিশ মানেই আইনে অজ্ঞ। রাস্তায় মাস্তানটির বিজ্ঞতা থাকলেও পুলিশের কোন বিজ্ঞতা নেই। এমতাবস্থায়, পুলিশের বিরুদ্ধে লেখক অনেক, কলামিষস্টও অনেক। আর টিভির ‘টকারদের’ তো ইয়ত্তাই নেই।

অস্বীকার করার উপায় নেই, পুলিশের কয়েকটি ঘটনা ইতোমধ্যে সারা দেশকে নাড়া দিয়েছে। এ দুটো হল, নারায়নগঞ্জের র‌্যাব কর্মকর্তাদের একটি খুনের ঘটনায় আপাতত প্রমাণিতভাবে জড়ানো এবং ডিএমপি ও সিএমপি এর পুলিশ হেফাজতে দুই ব্যক্তির মৃত্যু। কিন্তু এসব ঘটনা পুলিশের কোন সাংগঠনিক নীতির অংশ নয় কিংবা এসব ঘটনায় জড়িত পুলিশ সদস্যদের অপরাধ আড়াল করা কিংবা লঘু আকারে উপস্থাপনের কোন সাংগঠনিক প্রচেষ্টার প্রমাণও কেউ দিতে পারবেন না। উভয় ঘটনায় সংশ্লিষ্ট পুলিশ অফিসারদের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান কমিটি গঠিত হয়েছে। কমিটির প্রতিবেদনের ঘটনার সত্যতা প্রমাণিত হওয়ায় নিয়মিত মামলা রুজু করে তাদের গ্রেফতার করে রিমান্ডে পর্যন্ত আনা হয়েছে। তাই এসব বিষয়ে প্রমাণিত হয় না যে, পুলিশের ভাবমূর্তি ধূলিসাৎ হয়েছে। বরং আমি তো মনে করি, এসব ঘটনায় অভিযুক্ত পুলিশ অফিসারদের প্রতি কোন প্রকার শ্রেণিভিত্তিক অনুকম্পা না দেখিয়ে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করায় পুলিশের সাংগঠনিক ভাবমূর্তি উজ্জ্বল হয়েছে।

একজন লেখককে তথ্য-উপাত্ত উপস্থাপনে অত্যন্ত সতর্ক থাকতে হয় বৈকি। যে সূত্র থেকে তথ্য পাচ্ছি তারও বিশ্বাসযোগ্যতার বিষয়টি তলিয়ে দেখা লেখকের নৈতিক কর্তব্য। তাই পুলিশ সম্পর্কে আলোচিত তথ্য সমূহ প্রয়োগের ব্যাপারে লেখক আরো সতর্ক হলেও পারতেন। এ সাথে এটাও সঠিক যে পুলিশ সম্পর্কে যাচ্ছে তাই লেখার একটি সংস্কৃতি বাংলাদেশে রয়েছে। কিছু কিছু ক্ষেত্রে কিছু কিছু প্রতিবেদন ফরমায়েসি কিংবা আয়াসী প্রতিবেদনও প্রকাশ করেন। কিন্তু প্রতিবেদন আর কলামের মধ্যে পার্থক্য থাকা জরুরি। হয়তো কোন এক সময় পত্রিকায় পুলিশ সম্পর্কে যা লেখা হত, তা নিয়ে পুলিশ অফিসারগণ মাথা ঘামাতেন না। কিন্তু এখন পরিস্থিতি ভিন্নতর। পুলিশে জানলেওয়ালা অফিসারের সংখ্যা বহুগুণে বৃদ্ধি পেয়েছে। পুলিশ ও পুলিশিং নিয়ে তারা দেশে বিদেশে পড়াশোনা করছেন, কেউ কেউ এ নিয়ে এমফিল, পিএইচডিও করছেন। তাই পুলিশ সম্পর্কে যাই লিখা হবে, তাই মেনে নেয়া হবে এমনটি ভাবার কোন কারণ নেই।

Please follow and like us:
error