শাহ মুহাম্মদ আরিফুল কাদের : দেনমোহর ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ ফরজ বিষয়। কিন্তু এ বিষয়ে সমাজে চরম অজ্ঞতা ও উদাসীনতা বিরাজমান।পবিত্র কালামে ইরশাদ হচ্ছে, ‘এসব (মুহাররাম) নারীরা ছাড়া অন্যদের তোমাদের জন্য বৈধ করা হয়েছে। যে স্বীয় সম্পদ দ্বারা প্রয়াসী হবে তাদের সাথে বিবাহ বন্ধনে, ব্যভিচারে নয়। অতএব তাদের নিকট থেকে তোমরা যে আনন্দ উপভোগ করেছ (সে কারণে) তাদের ধার্যকৃত মোহর তাদেরকে প্রদান করবে। আর মোহর নির্ধারিত থাকার পরও কোনো বিষয়ে পরস্পর সম্মত হলে তাতে তোমাদের কোনো অপরাধ হবে না। নিশ্চয়ই আল্লাহ সর্বজ্ঞ, প্রজ্ঞাময়। (সূরা নিসা: ২৪)

দেনমোহর পরিমাণ স্বামীর আয়ের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ রেখে নির্ধারণ করতে হয়। দেনমোহরের পরিমাণ নির্ধারণ করার ক্ষেত্রে স্ত্রীর পারিবারিক অবস্থান ও স্বামীর আর্থিক সামর্থ্য বিবেচনা করা প্রয়োজন। দেনমোহর এত অধিক হওয়া উচিত নয় যা স্বামীর পক্ষে পরিশোধ করা সম্ভব নয়; আবার এত কম হওয়া উচিত নয় যা স্ত্রীর আর্থিক নিরাপত্তা দিতে পারে না। মোহর ধার্য্য করার সর্বোচ্চ সীমা হলো, ৪০০০ দিরহাম বা ১০৫০ তোলা রূপা বা এর সমমূল্য। হাদিসের ভাষায়, ‘উম্মুল মুমিনীনদের মাঝে উম্মে হাবিবা (রা)-এর মোহর বেশি ছিল। তাঁর মোহর ছিল চার হাজার দিরহাম। হাবশার বাদশাহ নাজাশী তাঁকে নবীজি (সা) এর সাথে বিয়ে দিয়েছিলেন এবং মোহরও তিনিই পরিশোধ করেছিলেন।

(সুনানে আবু দাউদ : ২১০৭, সুনানে নাসায়ী ৬ : ১১৯) আর ফিকহে হানাফির মতানুযায়ী বিবাহের ক্ষেত্রে সর্বনিম্ন পরিমাণ মোহর হলো ১০ দিরহাম। যার বর্তমান পরিমাণ হলো ৩০ গ্রাম ৬১৮মিলিগ্রাম বা ২.৫২ তোলা রূপা বা এর সমমূল্য। (জাদিদ ফিকহি ১ : ২৯৩) আর মুস্তাহাব মোহর হলো, মোহরে ফাতেমি। অর্থাৎ হজরত ফাতেমা ও হজরত আলী (রা)-এর বিবাহের মোহর। আবু সালামা ইবনে আবদুর রহমান বলেন, আমি উম্মুল মুমিনীন আয়েশা (রা)কে জিজ্ঞাসা করলাম যে, নবীজি (সা) কী পরিমাণ মোহর দিয়েছেন? তিনি বললেন, ‘নবীজি (সা) তাঁর স্ত্রীদেরকে সাড়ে বারো উকিয়া। অর্থাৎ ৫০০ দিরহাম মোহর দিয়েছেন। যা বর্তমানে বাজারের পরিমানে ১৩১.২৫তোলা রূপার সমমূল্য।’ (সহীহ মুসলিম : ১৪২৬, সুনানে আবু দাউদ : ২১০৫, সুনানে নাসায়ী ৬ : ১১৬, ১১৭)