পিকনিকের টাকায় এতিমদের ঈদ উপহার দিবেন দাদা ভাই।

0
51

উজ্জলঃ (স্বেচ্ছাসেবক) গত শুক্রবার মানিকগঞ্জ জেলা সেচ্ছাসেবকের প্রধান,বাছট বৈলতলা মুকদমপাড়া হাফিজিয়া’ নামে একটি মাদরাসা ও এতিমখানা পরিদর্শন করার জন্য আরোজ করেন।মুক্ত খবর পরিবার আমাকে প্রধান করে তিন সদস্যের একটি টিম যাওয়ার অনুমতি দেন।

মানিকগঞ্জ জেলার সাটুরিয়া উপজেলায় বাছট গ্রাম। এই গ্রামে রয়েছে ‘বাছট বৈলতলা মুকদমপাড়া হাফিজিয়া’ নামে একটি মাদরাসা ও এতিমখানা।কোমলমতি এতিম শিক্ষার্থিদের তেলাওয়াত শুনে আমি মুগ্ধ হয়ে যাই। উক্ত বিষয়টি আমাদের মুক্ত খবর ক্ষুদে প্রতিনিধিদের সবচাইতে প্রীয় মুখ দাদা ভাই কে অবগত করি। তিনি বৃষ্টি ভেজা সড়কে একাই মোটর সাইকেলে চালিয়ে এসেছেন।মোটর সাইকেলের পেছনের সিটে একটি কার্টন বাধা।দাদাভাই আগে থেকে না বললেও আমরা জানি এটার ভেতর কি আছে!তাই আর জিজ্ঞেস করলাম না। আমি তপু ও মামুন নিজ উদ্যগেই কার্টুনের ভেতরে থাকা খাবার গুলো এতিম শিশুদের বিলিয়ে দেই।

আমি লক্ষ্য রাখছি দাদা ভাইয়ের চোখ মুখের দিকে।তার গালে ছোট্ট একটা হাসির রেখা,অপলক দৃষ্টিতে এতিম শিশুদের মুখের দিকে তাকিয়ে আছেন তিনি।দেখে মনে হচ্ছে যেন ওদের খাওয়ায় দাদা ভাইয়ের পেট ভরছে।

কথা বলেন মাদরাসার মুহতামিম হাফেজ মাওলানা জয়নাল আবেদীন মোহতারাম এর সাথে।আবেগাপ্লুত হয়ে তিনি বলেন, এই মাদরাসার এতিম শিশুদের বেশির ভাগ অভিভাবকেরই আর্থিক সামর্থ্য নেই যে ঈদে তাদের শিশু সন্তানদের নতুন পোশাক কিনে দেবে।

প্রতিশ্রতি দিয়েছিলেন দাদা ভাই,আসছে ঈদে তিনি সেখানকার দরিদ্র শিক্ষার্থী ও এতিমদের মুখে  হাসি ফোটাবেন।

শহস্রাধিক ক্ষুদে প্রতিনিধিদের প্রীয় মুখ এই দাদা ভাই। গত পবিত্র ঈদ উল ফিতরে যার নিজের বেতন ও ঈদ বোনাসের টাকায় এতিমদের দিয়েছিলেন ঈদের নতুন পোশাক।আমার হাত দিয়েই সেইসব এতিম বাচ্চাদের সেইসঙ্গে ওই মাদরাসার শিক্ষকদেরও নতুন পোশাক দিয়েছেন তিনি।

ফাইল ফুটেজ

গত জুলাইয়ের প্রথম দিকে  সকল জেলা প্রতিনিধিদের স্বাক্ষরিত “বনভোজন- ২০১৮” একটি চিঠি আসে মুক্ত খবর বার্তা বিভাগে।ভিডিও কনফারেন্স এর মাধ্যমে অনেকেই তাদের অভিমত ব্যক্ত করেন।অতঃপর সিনিয়র প্রতিনিধিগন গোলটেবিক বৈঠক করায় বিষয়টি সবার নজরে আসে।আগষ্টের মাঝামাঝি সময় নির্বাচন করা হয়।স্থান নির্বাচনে সিলেট জাফলং অথবা চট্রগ্রাম ফয়েজ লেক আলোচনায় আসে।তবে বেশির ভাগই সিলেট জাফলংকে প্রাধান্য দিয়েছে।সময় একদিন তবে আসা যাওয়া দুই রাত গাড়িতে ধরা হয়েছে। আয়োজন থাকছে মানসন্মত খাবার,মেধা বিনোদন,ক্রিরা প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরন। সদস্য সংখ্যা সর্বচ্চ ৫০ জন হলে সর্বমোট এক লক্ষ টাকার বাজেট ধরা হয়েছে।
নিবন্ধন ফি:-জনপ্রতি-
ক) ২,৫০০ টাকা (প্রতিনিধি)।
খ) ২,০০০ টাকা (স্টুডেন্ট/নারী প্রতিনিধি)।
গ) ১,৫০০ টাকা (ক্ষুদে প্রতিনিধি)

তন্মধ্যে বার্তা বিভাগের অনুরোধে দুইজন মুক্তিযোদ্ধা!দুইজন প্রতিবন্ধী!দুইজন কোরআন হাফেজ এবং দুইজন বৃদ্ধাশ্রম বাসিন্দাদের অফিস খরচে ভ্রমন করানোর প্রস্তাব করা হলে,তার এক চতুর্থাংশ ব্যয়বহন করার চুড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেন বার্তা বিভাগ ও অন্যান্য বিভাগের প্রধানগন।দুই অর্থ উপদেষ্টা বিশিষ্ট কমিটি গঠন করে,গত ২৫/০৭/২০১৮ ইং তারিখের মধ্যে আগ্রহী প্রার্থীদের নিবন্ধন করার জন্য বলা হয়।যা পরবর্তিতে আরো দুইদিন তা অব্যাহত থাকে।।বনভোজন-২০১৮ প্রকল্পে মোট ৬৩,৫০০(তেষট্টি হাজার পাচশত) টাকা

গতকাল এক অনাড়ম্বর অনুষ্ঠানের মাধ্যমে,বনভোজন-২০১৮ এর সকল নিবন্ধিত সদস্যের প্রতি আহ্বান জানান দাদা ভাই। তিনি বলেন-আমরা আনন্দ পেতে নয় মানুষকে আনন্দ দেয়ার কাজ করি।আমি স্মিকার করছি যে,প্রত্যেকটা মানুষের ক্লান্তিহীন জিবনে বিনোদনের প্রয়োজন আছে।তন্মধ্য সকলের অনুরোধে আমরা তরিঘরি করেই মুক্ত খবর “বনভোজন-২০১৮” প্রকল্প হাতে নিয়েছি। একেকজন দ্বিমত পোষন করছেন।কেউ ফয়েজ লেক কেউবা জাফলং।এখন বর্ষামৌসুম। আমাদের এখনো ২৫ শতাংশ অর্থ বাকি।তারউপর অনেকে টাকা দিয়ে নাম রেজিঃ করার পরও বলছে,হয়ত যাওয়া সম্ভব হবেনা। দুর্ভাগ্য আমাদের,আমরা আমাদের নিজেদের প্রকল্প বাস্তবায়নে অপরাগত প্রকাশ করছি। আসুন না এই  একদিনের আনন্দ টা আমরা অন্যদের বিলিয়ে দেই।  একটা দিনেরইতো বিনোদন।এই ছাড় টা  যদি এতিম শিক্ষার্থীদের মাঝে ঈদ উপহার স্বরুপ বিতরণ করা হয়,আমরা কি আনন্দিত হবোনা।।

সকলেই দাদা ভাইয়ের প্রস্তাব টা সন্মানের সহিত মেনে নিয়েছে।

এ প্রসঙ্গে নুরুল ইসলাম বলেন,বেতন ও ঈদ বোনাসের টাকায় দাদা ভাই গত ঈদে এতিমদের পোষাক উপহার দিয়েছেন বিষয়টি আমার জানা নেই।জানবই বা কিভাবে জানালেতো জানবো।আজকাল কারো জন্য কিছু করলে ফেসবুকে তুলে ধরে সবার আগে।তার বেলায় ভিন্নোমত। আসলে দাদা ভাই এমনই।এমনই হওয়া উচিত সবার।আমি তাহার প্রস্তাব কে হাসি মুখে স্বাগত জানাই। সমাজের অনগ্রসর মাদরাসার দুস্থ শিশু ও এতিমদের মাঝে ঈদের আনন্দ বিলিয়ে দিতে তার এই মহান প্রয়াস আমার মতো সকল সদস্যকে নিঃসন্দেহে অনুপ্রাণিত করবে।

অ্যাডভোকেট  ফারুক বলেন এই উপহারগুলো এতিম ও দরিদ্র শিশু শিক্ষার্থীদের ঈদ আনন্দের পরিপূর্ণতা এনে দেবে বলে আমার বিশ্বাস।দাদা ভাই প্রশংসা পাওয়ার চেষ্টা করেনা বলেই নিজের এই সাদামন টাকে বাহিরে প্রকাশ করেনা।বয়সে ছোট হলেও তার প্রতি আমার অশেষ ধন্যবাদ কৃতজ্ঞতা ও শ্রদ্ধা জানাই। সমাজের সব বিত্তবানই এতিম ও দরিদ্র শিশুদের মাঝে ঈদ আনন্দ বিলিয়ে দেয়ার চেষ্টা করা উচিত। আমিও এই প্রকল্পে আছি ইনশাআল্লাহ।

আজকের আলোচনায় আরও উপস্থিত ছিলেন মুক্ত খবরের স্বেচ্ছাসেবক প্রধান নাজনিন নাহার,উপদেষ্ঠা সাবিনা আনোয়ার, সিনিয়র প্রতিনিধি আকবর হোসাইন। মাদরাসার কোষাধ্যক্ষ নুরুল ইসলাম, আব্দুর রহমার বিশ্বাস, কোষাধ্যক্ষ তোফাজ্জল হোসেন , উপদেষ্টা মজিবুর রহমার, যুগ্ম সম্পাদক আমিনুল ইসলাম, মাদরাসার উপদেষ্টা হাসিবুল হাসান সোহেল, শিক্ষক মোঃ সাইফুল ইসলাম সহ বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যম্পাস প্রতিনিধিগন ।

Please follow and like us: