রাজধানীতে যারা মাদকের কারবার ছড়িয়ে দিচ্ছেন, তাদের একটি তালিকা করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন মহানগর পুলিশ কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া। জানান, এই তালিকায় ২০০ জনের নাম আছে।

দেশব্যাপী মাদকের বিরুদ্ধে সাঁড়াশি অভিযানের মধ্যে বৃহস্পতিবার রাজধানীর ফার্মগেটের আনন্দ সিনেমা হলের সামনে মাদকবিরোধী সচেতনতামূলক কর্মসূচির পালন করে মহানগর পুলিশ-ডিএমপি। এ সময় এই তথ্য জানান কমিশনার।

অনুষ্ঠানে যোগ দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামালও। তিনি জানান, গত কয়েক মাস ধরে পুলিশ ও র‌্যাবের করা তালিকার ভিত্তিতে সারাদেশে অভিযান চলছে। যে যত কথাই বলুক না কেন, এই অভিযান চালু থাকবে। কাউকে ছাড়া হবে না। ঢাকায় যারা মাদক ছড়াচ্ছে, ছাড়া পাবে না তারাও।

ডিএমপি কমিশনার বলেন, ‘ঢাকা মহানগরীতে ২০০ মাদক ব্যবসায়ীদের তালিকা চূড়ান্ত করা হয়েছে। এদের প্রত্যকেকেই বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করানো হবে।’

দেশের বিভিন্ন এলাকায় ৪মে থেকে মাদকবিরোধী সাঁড়াশি অভিযানে রাজধানীতে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। অবশ্য এই অভিযানে কেবল নিহতের ঘটনা ঘটছে তা নয়, কয়েক হাজার গ্রেপ্তারও হয়েছে। তবে ঢাকায় গ্রেপ্তারের কোনো সংখ্যা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়নি।

তবে ডিএমপি কমিশনার ‘প্রত্যকটি পাড়া-মহল্লায় মাদকের আখড়া ভেঙে গুঁড়িয়ে দেয়া হবে। যারা মাদকের ব্যবসার সঙ্গে জড়িত হবে তাদের প্রত্যককে আইনের আয়তায় এনে কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করা হবে।’

মাদক আগামী প্রজন্মকে ধ্বংস করে দিচ্ছে উল্লেখ করে মহানগর পুলিশ কমিশনার বলেন, ‘এটা যেকোনো অপরাধের চাইতে ভয়াবহ।’

এবার রোজায় রাজধানীতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা অনেক ভালো বলেও দাবি করেন পুলিশ কমিশনার। বলেন, ‘মানুষ গভীর রাত পর্যন্ত শপিংমলে কেনাকাটা করছে। এখন পর্যন্ত রাজধানীতে ছিনতাই বা অপকর্মের কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি।’

নগরবাসীর নিরাপত্তা ও চলাচলকে সহজ করতে পুলিশ আপ্রাণ চেষ্টা করছে বলেও জানান আছাদুজ্জামান মিয়া। বলেন, ‘ঢাকা শহরে যানজটের বেহাল অবস্থা। এরপরেও জনগণের নিরাপত্তার স্বার্থে ৮০০ ট্রাফিক পুলিশ প্রতিদিন রাস্তায় দাঁড়িয়ে ইফতার করে।’

অনুষ্ঠান শেষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, ডিএমপি কমিশনার ও পুলিশের কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্স ন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিটের প্রধান মনিরুল ইসলাম বিভিন্ন গণপরিবহনে মাদকবিরোধী স্টিকার সেঁটে দেন।

ডিএমপির গোয়েন্দা শাখার অতিরিক্ত কমিশনার দেবদাশ ভট্টাচার্য, অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম) কৃষ্ণ পদ রায়, যুগ্ম কমিশনার (ক্রাইম) শেখ নাজমুল আলমসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এ সময় উপস্থিত ছিলেন।