ইমরান মাহমুদ: ঈদকে সামনে রেখে ঢাকায় সক্রীয় হয়ে উঠেছে মোটর সাইকেল চোর চক্রের সিন্ডিকেট। এর মধ্যে মিরপুর,খিলগাঁও ও যাত্রাবারি  থানা এলাকায় সবচেয়ে বেশি মোটর সাইকেল চুরি  হয়। খিলগাঁও এ একটি শক্তিশালী মটর সাইকেল চুরির সেন্ডিকেট রয়েছে।

রামপুরা মৌলভিরটেক বেসরকারি চাকুরিজিবী কাজী মোয়াজ্জেম হোসেন রুবেল শনিবার (২০ জানুয়ারী) তার বাসার নিচে গেইটের ভিতরে থাকা ১৫০ সিসি হোন্ডা ট্রিগার (ঢাকা মেট্র-ল-১৮-৩৭৭৯) মোটর সাইকেলটি তালা ভেঙ্গে নিয়ে যায় এক অজ্ঞাত চোর। সিসি টিভির ফুটেজে সাইকেল নিয়ে যাওয়ার দৃশ্যটি ধরা পড়ে। এতে দেখা যায় ঘটনার সময় সকাল ৯ টা ৫ মিনিটে কালো জ্যকেট পরা এক যুবক দ্রত মোটর সাইকেলটি নিয়ে খিলগাঁও সিপাহিবাগ নতুন রাস্তা হয়ে নবীনবাগ ছাহেরুনবাগের রাস্তা দিয়ে বনশ্রী ডি ব্লকের দিকে চলে যাচ্ছে। এ সময় যুবকটির মাথায় কোন হেলমেট ছিলোনা। উচ্চতা আনুমানিক সাড়ে ৫ ফুট। ফুটেজ দেখে চুরি হওয়া সাইকেলটি সনাক্ত করেন সাইকেলটির মালিক।

গত ১০ মার্চ দিন দুপুরেই খিলগাঁওয়ের সিপাহিবাগের উত্তর গোড়ান-আদর্শনগরের একটি বাড়ির নিচ থেকে একটি মোটরসাইকেল নিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। একই দিনে ভোরে উত্তর গোড়ানের ৬৬ নম্বরে যে বাড়ির নিরাপত্তাকর্মীকে কুপিয়ে মোটরসাইকেল নিয়ে গিয়েছিল ছিনতাইকারীরা, ওই বাড়ির অদূরেই অবস্থিতি ৩৫০ নম্বর বাড়ি থেকে গত শুক্রবার দুপুরে আরও একটি মোটরসাইকেল চুরি হয়।

ভুক্তভোগী নূরে আলম জানান, ৩৫০ নম্বর বাড়ির নিচে তার ডিসকভার মোটরসাইকেলটি রাখা ছিল। দুপুরে নামাজের সময় লোকজন না থাকার ওই সুযোগে চোরেরা তার বাইকটি নিয়ে যায়। এ ঘটনায় খিলগাঁও থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে। কিন্তু গতকাল রাত অবধি উদ্ধার হয়নি নূরে আলমের মোটসাইকেল। গ্রেপ্তার হয়নি চোরচক্রের কেউই।

এর আগে গত ৮ মার্চ গভীর রাতে মিরপুরের উত্তর টোলারবাগে মোটরসাইকেল চুরিতে বাধা দিতে গিয়ে খুন হন নিরাপত্তাকর্মী ওমর ফারুক। চুরি যাওয়া মোটরসাইকেলটি ১০ মার্চ পরিত্যক্ত অবস্থায় উদ্ধার করা গেলেও পুলিশ খুনিচক্রের কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি। ৮ মার্চ রাতেই মিরপুর ২ নম্বর সেকশনের ‘ই’ ব্লকের নোভা রহমান হাউজিং সোসাইটির একটি বাসার নিরাপত্তাকর্মী অপু কুমার সরকার ও আনিসুর রহমানকে কুপিয়ে মোটরসাইকেল নিয়ে যায় ছিনতাইকারীরা। গত ১০ মার্চ ভোরে হাজারীবাগের বউবাজার এলাকায় নিরাপত্তাকর্মী মুরাদ হোসেনকে ছুরিকাঘাত করে মোটরসাইকেল ছিনতাইয়ের চেষ্টা চালানো হয়।

এরা বিভিন্ন বড় ভাইদের ছত্রছাযায় চলে বলে অভিযোগ রয়েছে। এরা শুধু দিনের আলোতেই নয়,রাতের অন্ধকারে ও বাসা বাড়ীর তালা ভেঙ্গে মোটর সাইকেল চুরি করে।এদের দাপটে সাধারণ মানুষ তটস্ত থাকে। একইভাবে,গোড়ান,মুগদা,শনিরআখরা,চিটাগাং রোড ও বাড্ডায় বেশ কয়েকটি সিন্ডিকেট আছে বলে অভিযোগ রয়েছে।চোরাই মোটর সাইকেল শহরে প্রকাশ্যে বেপরোয়াভাবে চলাচল করছে। চোরাই মোটর সাইকেল ব্যবহারের মাধ্যমে অবৈধ কার্যকলাপ করে মোটা অঙ্কের অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে একটি কুচক্রী মহল। জানাযায়, উঠতি বয়সী কিছু যুবক রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় থেকে মোটর সাইকেল চুরি সিন্ডিকেটের সাথে জড়িত রয়েছে।

ওইসব চোর সিন্ডিকেটের সাথে রাজনৈতিক প্রভাবশালীদের সখ্যতা থাকায় পুলিশ তাদেরকে ধরতে সমীহ করছে বলে অভিযোগ রয়েছে। মোটর সাইকেল চুরি করার পর পরই এসব চোরাই গাড়ীগুলো এক জেলা থেকে অন্য জেলা বা এক থানা থেকে অন্য থানায় দেয়ার কাজে নিয়োজিত থাকে একটি চক্র।
হাজীগঞ্জের এই চক্রটিকে হাজীগঞ্জ পশ্চিম বাজারস্ত বিশ^রোড হাজীগঞ্জ-রামগঞ্জ-কচুয়া সড়কের যাত্রী ছাউনি ও চায়ের দোকানে আড্ডা দিতে দেখা যায়।
এসব চক্রের কোন ব্যাবসা বাণিজ্য না থাকলেও একেক সময় একেক দামি-দামি মোটর সাইকেল নিয়ে আনাগোনা করতে দেখা যায়। এরা ইয়াবা, প্যাথেডিন, গাজা, ফেনন্সিডিল পাচারে ও এইসব গাড়ী ব্যাবহার করে। বড় ভাইদের কারণে এরা সবসময় পুলিশের ধোরা-ছোঁয়ার বাহিরে থাকে।

এদিকে পবিত্র ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে মোটর সাইকেল চোর চক্ররা সক্রিয় হয়ে উঠছে। প্রেসের কার্ড ব্যবহার করে কিছু মাদক ব্যবসায়ী ও দালাল চক্র নিজেদের স্বার্থ হাসিল করছে। মাদক ক্রয়-বিক্রয়, বিভিন্ন সরকারি অফিসে দালালি, মামলা-হামলায় মোটর সাইকেল ছিনতাইসহ বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে যাচ্ছে এ চোর সিন্ডিকেট। এদের মূল চালান চোরাই দামী হোন্ডা। এদের কারণে বিভিন্ন সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছে প্রকৃত সংবাদকর্মী ও সাধারণ মানুষ।

দেখা যায়, মোটর সাইকেলে প্রেস বা সংবাদপত্র লেখাসহ বিভিন্ন মানবাধিকার ও প্রতিষ্ঠানের নাম উল্লেখ করে থাকে। এতে করে মাঠ পর্যায়ের সংবাদকর্মী ও মানবাধিকার সংবাদ কর্মীরাসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নিয়োজিতরা বিপাকে পড়ছে। এদিকে মডেল থানা পুলিশের অভিযানে মোটরসাইকেল চোর সিন্ডিকেটের কয়েকজন সদস্যকে পুলিশ কয়েকবার আটক করায় দীর্ঘ দিন বাজারে মোটরসাইকেল চুরি বন্ধ থাকে কিন্তু সেই চোর সেন্ডিকেট চক্র আবারো জামিনে এসে মোটরসাইকেল চুরি করার কাজে পুনরায় নিয়জিত হয়ে পড়ে বলে বিভিন্ন সূত্র জানা যায়।

ডিবির যুগ্ম কমিশনার ব‌লেন, মোটর সাই‌কেল চোর চ‌ক্রের মূল টা‌র্গেট হ‌লো মে‌ডি‌কেল ক‌লেজ এলাকাগু‌লো। কারণ এ সকল এলাকায় মে‌ডি‌কেল রিপ্রে‌জে‌ন্টে‌টিভ‌দের মোটর সাই‌কেলসহ আরও মোটর সাই‌কেল সা‌ড়িবদ্ধভা‌বে রাখা থা‌কে। এ‌তো মোটর সাই‌কেলের ম‌ধ্যে কেউ খেয়াল কর‌তে পা‌রে না, আর তখনই তারা দ্রুততম সম‌য়ের ম‌ধ্যে চু‌রি ক‌রে।

এই চক্র‌টি মাদারীপুর শিবচর, শরীয়তপুর ভ‌বেরচর, নারায়নগ‌ঞ্জের সি‌দ্ধিরগ‌ঞ্জে চোরাই মোটর সাই‌কেলগু‌লো রে‌খে বি‌ক্রি ক‌রে। বি‌ক্রির জন্য তা‌দের অন্য আ‌রেক‌টি দল কাজ ক‌রে। আমরা গ্রেপ্তারদের জিজ্ঞাসাবাদ কর‌ছি। তা‌দের ত‌থ্যের ভি‌ত্তি‌তে এ চ‌ক্রের বা‌কি সদস্য‌দের গ্রেফতা‌রের অ‌ভিযান অব্যাহত র‌য়ে‌ছে।

‌বিআর‌টিএ এর কিছু অসাধু কর্মকর্তা‌দের যোগসা‌জো‌শে এই চক্র‌টি মোটর সাই‌কেলের নতুন নম্বর বা‌নি‌য়ে বি‌ক্রি ক‌রে। ত‌বে চে‌সি‌সের নম্ব‌রের স‌ঙ্গে নম্বর প্লে‌টের কোন মিল থা‌কে না।

সাংবা‌দিক‌দের এক প্র‌শ্নের জবা‌বে তি‌নি ব‌লেন, আমরা বিআর‌টিএ এর যোগসা‌জো‌শের ব্যাপার‌টি তদন্ত ক‌রে দেখ‌ছি। আস‌লেই কোন কর্মকর্তা জ‌ড়িত না‌কি দালালরা হুবহু কাগজপত্র বা‌নি‌য়ে চোর চক্র‌কে দি‌চ্ছে সে‌টি তদন্ত ক‌রে দেখ‌ছি।

Please follow and like us:
error