সাব্বির আহমেদ।।

অনুমতির তোয়াক্কা না করে অন্যের ছবি ব্যবহার করে নিজেদের বিজ্ঞাপন হিসেবে চালাচ্ছে আরএফএল প্লাস্টিক কোম্পানি। ওই কোম্পানি তাদের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে ছবিটি পোস্ট করায় গেল কয়েকদিন ধরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এ নিয়ে সমালোচনার ঝড় উঠেছে। বিষয়টি নিয়ে ফেসবুকে নানা মন্তব্য উঠে আসছে। অনেকে বিষয়টি নিয়ে ট্রল করারও চেষ্টা করছেন।

জানা যায়, গত ৮ এপ্রিল রাতে কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীর সঙ্গে পুলিশ সংর্ঘষ বাঁধলে আবু সুফিয়ান জুয়েল নামে একজন ফটো সাংবাদিক বাধ্য হয়ে রাস্তায় পাওয়া টুল মাথায় হেলমেট হিসাবে ব্যবহার করে ছবি তোলেন। তিনি বিডিমর্নিং ডটকম এ কাজ কর্মরত।

আবু সুফিয়ান জুয়েল জানান, ওই ঘটনার সময় ইটের ঢিল আর টিয়ারগ্যাস থেকে বাচঁতে রাস্তায় পাওয়া টুলটি ব্যবহার করেন। নিজের অজান্তে তার ওই মুহূর্তটি ক্যামেরাবন্দি করেন ফোকাস নিউজ এজেন্সির ফটো সাংবাদিক আব্দুল গণি। পরে ছবিটি অল্প সময়ের ব্যবধানে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়ে যায়।

জুয়েল বলেন, ভাইরাল হওয়ার কিছুদিন পর আরএফএল প্লাস্টিক তাদের নিজস্ব পেজে আরএফএলের লগো লাগিয়ে চালিয়ে দেয়। আমার অনুমতি না নিয়ে ছবি ব্যবহার করা ন্যাক্কারজনক। আরএফএল প্লাস্টিক কোম্পানির এমন আচরণে আমি ক্ষুব্ধ।

ফেসবুকে বিষয়টি দেখে তিনি রীতিমতো বিরক্তও বটে।

এ বিষয়ে আরএফএল প্লাস্টিক কোম্পানির হেড অব মার্কেটিং আরাফাত-উর রহমান  বলেন, ভাইরাল হওয়া ছবিটি যিনি ধারণ করেছেন, ওনার অনুমতি ছাড়াই ছবিটি কোম্পানির নিজস্ব পেজে দেওয়া হয়। পরে ওই ছবিটি ফের ভাইরাল হলে ছবিটি ধারণকারী ফোকাস নিউজ এজেন্সির স্টাফ ফটো সাংবাদিক আব্দুল গণির কোম্পানির সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। ওনাকে কোম্পানির পক্ষ থেকে ছবিটিতে স্বীকৃতি দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়।

ছবিটি ব্যবহারের সময়ও বাংলায় একটি বার্তা দেওয়া হয়, যাতে লেখা আছে “সব পরিস্থিতিতে আমাদের পণ্যগুলির স্থায়িত্বের উপর নির্ভর করার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ”। অনুমিতি না নিয়ে অন্যের ছবি ব্যবহার যা কপিরাইট আইন লংঘনের শামিল। আরএফএল তাদের অফিসিয়াল পেজে এ বিজ্ঞাপন নিয়ে ফেসবুক ব্যবহারকারীরাও তাদের পোস্টে তীর্যক মন্তব্য করেছে।

এ ব্যাপারে ফোকাস নিউজ এজেন্সির স্টাফ ফটো সাংবাদিক আব্দুল গণি  বলেন, আমার সঙ্গে কোন প্রকার যোগাযোগ না করেই আরএফএল কোম্পানি তাদের অফিসিয়াল পেজে আমার ছবির বিজ্ঞাপন দিয়েছে। যা কপিরাইটের লংঘন। আমি তাদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করছি এবং আইন অনুয়ায়ী আমার অফিস পরবর্তী পদক্ষেপ নেবে।

ছবিটি কারো না কারো অবশ্যই তোলা, প্রকৃত মালিককে না জানিয়ে কোম্পানি ছবিটি তাদের নিজস্ব বিজ্ঞাপন আকারে চালিয়ে দেওয়ায় রীতিমতো ক্ষুব্ধ আব্দুল গণি।

তবে অনেকেই বলেছেন, এমন ছবি ব্যবহারে ফটো সাংবাদিকের অনুমতি অবশ্যই বাঞ্ছনীয়। একই সঙ্গে যিনি এ ছবি তুলেছেন তার ফটো ক্রেডিট দেওয়া এবং যাকে নিয়ে এই ছবি তোলা হয়েছে তাদের সম্মান করা উচিত,তারা কাজের প্রতি সৎ থেকেই এমন পরিস্থিতি সামলেছেন। তাদেরকে ছবির বর্ণনায় আনা প্রয়োজন।আবার বেশিরভাগ ফেসবুক ব্যবহারকারী পোস্টে মন্তব্য করেছেন, এটি হাস্যকর এবং কয়েকটি গুরুতর সমস্যার আলোকে বিজ্ঞাপনটিকে সমালোচনা করেছে।

Please follow and like us:
error