সম্মানহানির উদ্দেশ্যে কারো পেছনে লাগা পাপের কাজ!

0
29

মাওলানা ফজলুল হক, অতিথি লেখক, ইসলাম

আল্লাহতায়ালা মানুষকে সুন্দরতম গঠন ও রূপ দিয়ে সৃষ্টি করেছেন। তাকে আকর্ষণীয় বাহ্যিক কাঠামো ও যথার্থ অনন্য অভ্যন্তরীণ বৈশিষ্ট্য দিয়ে সমৃদ্ধ করেছেন। তবে মানুষের সৌন্দর্য পূর্ণতা পায় তার ভেতরের শুদ্ধতার দ্বারা, যা তার বাইরের লাবণ্য প্রকাশ করে।

তার মূল সত্বার স্বচ্ছতা দ্বারা, যা বাহ্যিক অবয়বের শোভাকে ফলপ্রসূ করে। বাহ্যিক অবয়ব যদি মানুষের দৃষ্টির কেন্দ্র ও তাদের বোধের চূড়ান্ত সীমা হয়ে থাকে তবে অভ্যন্তরীণ দিকটা হলো আল্লাহর দৃষ্টির ক্ষেত্র।

হজরত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘নিশ্চয় আল্লাহ তোমাদের দেহ ও বাহ্যিক অবয়বের দিকে তাকান না, বরং তোমাদের হৃদয়ের দিকে তাকান।’

ভেতরটা যখনই আল্লাহর সঙ্গে শক্তিশালী সম্পর্ক স্থাপন করবে তখনই সে তার ভালোবাসা ও গ্রহণযোগ্যতা পাবে। আল্লাহর ভালোবাসায় বান্দার ভেতরটা পূর্ণ থাকলে আসমান ও জমিনের অধিবাসীদের হৃদয়েও সে গ্রহণযোগ্যতা লাভ করে।

হজরত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘আল্লাহ কোনো বান্দাকে ভালোবাসলে জিবরাঈলকে ডেকে বলেন, আমি অমুককে ভালোবাসি, তাই তুমিও তাকে ভালোবাস। তখন জিবরাঈল আলাইহিস সালাম তাকে ভালোবাসেন। তিনি আসমানের অধিবাসীদের ডেকে বলেন, আল্লাহ অমুককে ভালোবাসেন, তোমরাও তাকে ভালোবাস। আসমানবাসীও তাকে ভালোবাসে। তারপর পৃথিবীতেও তার জন্য গ্রহণযোগ্যতা সৃষ্টি করে দেওয়া হয়।’

কেয়ামতের দিন বান্দার বাহ্যিক ও অভ্যন্তরীণ উভয়টিরই কড়াকড়ি হিসাব হবে। এ প্রসঙ্গে আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘যে বিষয়ে তোমার জ্ঞান নেই তা অনুসরণ করো না। নিশ্চয় কর্ণ, চক্ষু ও অন্তর সবগুলোই এ বিষয়ে জিজ্ঞাসিত হবে।’ -সূরা ইসরা: ৩৬

এ গভীর বোধের ফলে মুসলিম ব্যক্তি তার অভ্যন্তরীণ বিষয় পরিশুদ্ধ করতে সক্রিয় হবে, যার মূল ভিত্তি হলো- মাবুদের জন্য খাঁটি নিয়ত করা। নিয়তই ইবাদত-বন্দেগির মূল নির্যাস। বাহ্যিকভাবে আল্লাহর ইবাদতের ভিত্তি হলো- সঠিকভাবে অনুসরণ ও অনুকরণ করা। প্রসঙ্গে আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘বলুন, যদি তোমরা আল্লাহকে ভালোবেসে থাক তবে আমার অনুসরণ করো। তাহলে আল্লাহ তোমাদের ভালোবাসবেন।’ -সূরা আলে ইমরান: ৩১

ইবাদত মুসলমানকে বাহ্যিক ও অভ্যন্তরীণ

Please follow and like us: