ইমরান মাহমুদ:(সরেজমিন প্রতিবেদন)

১৫ বছর আগে ভালোবেসে বিয়ে করেন পারভিন বেগম। এখন সেই স্বামীর হাতেই নির্যাতিত হতে হচ্ছে তাকে। বিয়ের পর তাদের সংসার ভালোই চলছিল। দুই বছর পর তাদের একটি সন্তান হয়। এরই মধ্যে জহির গাঁজা সেবন শুরু করেন। প্রথমে বাইরে সেবন করে বাসায় ফিরতেন। পরে ঘরেই সেবন শুরু করেন। বছর দুয়েক আগে জহির ইয়াবায় আসক্ত হয়ে পড়েন। প্রথমদিকে বাইরে ইয়াবা সেবন করলেও এখন ঘরেই সেবন করেন। দিন যত যাচ্ছে, তার আসক্তি ততই বাড়ছে।

পর্ব ১ঃ 

পারভিন বেগম জানান, তারা ঢাকার অস্থায়ী বাসিন্দা। নোয়াখালি মাইজদি তাদের বাড়ি। তিনি একমাত্র সন্তানকে নিয়ে রামপুরা বনশ্রীর একটি বাড়িতে ভাড়া থাকেন।

দীর্ঘদিন প্রেম করার পর ১৫ বছর আগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মরত জহির কে ভালোবেসে বিয়ে করেন তিনি।

শুধু শারীরিক নির্যাতনই নয়, তাকে বিবস্ত্র করে প্রায়ই বাসা থেকে গলাধাক্কা দিয়ে রাস্তায় বের করে দেন ইয়াবাসেবী স্বামী জহির । তার নিষ্ঠুরতা থেকে রক্ষা পায় না বারো বছরের একমাত্র সন্তান রিয়াজও। তাকে মারধর করেন তিনি।

প্রতিবাদ করলে অমানবিক নির্যাতনের মাত্রা আরো বেড়ে যায় । জহিরের নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে বছর দুয়েক আগে রামপুরা থানায় সন্তানকে নিয়ে  হাজির হন পারভিন। তারা ঘটনার নির্মম বর্ণনা দেন ডিউটি অফিসারের কাছে। পরে রত্না সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।

পারভিন আরও জানান, ইয়াবা যে একটি খারাপ জিনিস তা জহির’কে বোঝানো যাচ্ছে না। প্রতি রাতে ৫-৬টি ইয়াবা সেবন করেন তিনি। সন্তান ইয়াবা ভালো না বললে, উল্টো তার ওপর নির্যাতন চালান।

স্কুলের মেধাবি ছাত্র রিয়াজ মাঝেমধ্যে ইয়াবা জানালা দিয়ে ফেলে দেয়। এ কারণে তাকে মারধর করেন জহির। এমনকি বিছানা থেকে ছুড়েও ফেলে দেন। পারভিনের ভাষায়, যারা তাকে ইয়াবা সেবনে বাধা দেয়, তাদের সবার ওপরই নির্যাতন চালান জহির। স্বামীর এহেন পরিস্থিতিতে সন্তানের ভবিষ্যতের কথা ভেবে,রিয়াজকে তার দাদুর বাড়ি মাইজদি তে পাঠানো হয় এবং সেখানেই পড়াশোনা করছে রিয়াজ।

পারভিন জানান, নেশাগ্রস্ত অবস্থায় একদিন রাতে তাকে বিবস্ত্র করে বাসা থেকে বের করে দেয়া হয়। তাকে অকথ্য ভাষায় গালাগাল করেন। পরে আশপাশের বাসার লোকদের হস্তক্ষেপে তিনি বাসায় প্রবেশের সুযোগ পান।

তিনি জানান, ইয়াবা সেবনে বাধা দেয়ায় আমার উপর ক্ষিপ্ত হয়ে অমানবিক  নির্যাতন চালান জহির। তার মাথা এবং চোখে আঘাত করেন।

খবর পেয়ে তার (পারভিন) মা-বাবা বাসায় এলে বিষয়টি সাধারন মিমাংসা করা হয়।

এ ব্যাপারে জহির দাবি করেন, তিনি তার স্ত্রীকে অন্য পুরুষের সঙ্গে একাধিকবার তার ঘরে একান্তে সময় কাটাতে দেখেছেন।নিজের সুবিধার জন্য ছেলেকে পিতার স্নেহ থেকে বঞ্চিত করে পাঠানো হয়েছে গ্রামের বাড়িতে।  এ নিয়ে তিনি মানসিকভাবে খুব খারাপ অবস্থায় আছেন।

তাই যাকে দেখেন, তাকেই তিনি গালাগাল করেন। অন্যদিকে তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের বিষয়টি সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন বলে উল্লেখ করেন পারভিন।

বিষয়টিকে খুবই দুঃখজনক উল্লেখ করে রামপুরা থানার পুলিশ পরিদর্শক রফিক বলেছিলেন,  প্রায় দেরবছর আগে,আমি তখন রামপুরা থানায় কর্মরত ছিলাম।উক্ত বিষয়টি তদন্ত করে যথাযথ ব্যবস্থা নিতে এএসআই হারুন অর রশিদকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

পর্ব ২:  

( চলবে)……

Please follow and like us:
error