ইমরান মাহমুদ: বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রীয় যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে অন্যান্য পুলিশ অফিসারের চেয়ে বাড্ডা থানার ওসি কাজী ওয়াজেদ আলি’র জনপ্রীয়তা কম নয়। অপরাধ দমন ও জননিরাপত্তা দেয়ার পাশাপাশি তার উঠান বৈঠকের কার্যকরি ভুমিকা ছিল বিদ্যামান,যার কারনে খুব সহযেই এলাকাবাসির সাথে বন্ধুত্তে পরিনত হয়েছেন তিনি। ছিন্নমূল থেকে শুরু করে স্থানীয় বাসিন্দার মনে আস্থা অর্জন করেছেন নিরঅহংকার এই মানুষটি।ফেসবুকে অনেকে বীর বাহাদুর,সময়ের সেরা ওসি এবং ফাটাকেষ্ট ক্ষেতাব দিয়েছেন ইতিমধ্যে।

শুধু তাই নয় ২০১৭ সালে জাতীয় ডেইলি ষ্টার ইংরেজী পত্রিকা এক মানবিক কর্মকান্ডের জন্য ওসি কাজী ওয়াজেদ আলিকে হিরো উপাধি দিয়ে একটি প্রতিবেদন ছাপানো হয়।

ফেসবুকে একটা সময় ওসি কাজী ওয়াজেদ সাহেবের সাথে আমার খুব ভাব ছিলো। রিতিমতো দুজনের ফানি কমেন্ট এ সবাই হুমড়ি খেয়ে পড়তো। আমি  ইচ্ছে করেই তার প্রত্যেক পোষ্ট এ বিরোধিতা করে কমেন্ট করতাম,শুধুমাত্র সবার মুড টা একটু crash করার জন্য।নেতিবাচক মন্তব্যে সবাই যখন আমার উপর ক্ষেপে যেতেন,আমি লক্ষ্য করেছি,তিনি’ই তাদের রাগ টা থামিয়ে দিতেন মাত্র এক লাইন বাক্যে।তার ভক্তরা আমাকে গালি দেয়া তো দুরের কথা বরং আমাদের তর্কে বেশ আনন্দ উপভোগ করতো বলেই আমার বিশ্বাস।

ফেসবুকে কাজী ওয়াজেদ ভাই আর আমার সৎ ভাই য়ের একটি ভার্চুয়াল সম্পর্ক ছিলো। অনেকেই এই সম্পর্ক টাকে  সতযি হিসেবে ধরে নিয়েছেন।

তার একাধিক ইনভাইট এ “গারদ খানা দেখে যান ! আর আমার বিদ্রুপ মন্তব্য যদি তালা মাইরা দেয়? পুলিশ রে ডরাই কিন্তু ভয় পাইনা” বাক্য দুটি ফেসবুকে খুব জনপ্রীয় হয়ে উঠেছে।কাজী ওয়াজেদ আলি সাহেব তখন কদমতলি থানায় দায়িত্বরত ওসি।একদিন হঠাৎ করেই তার থানায় হাজির হই। দিনটি ছিলো পবিত্র শব-ই-বরাত।পাঞ্জাবি পরিহিত লোকটাকে দেখে আমার খুব ঈর্ষা হয়েছে,আমাকে দেখা মাত্রই খুশিতে মেতে উঠেছেন।পবিত্র দিন উপলক্ষে মিষ্টিমুখ সহ প্রায় দু’ঘন্টা আড্ডা দিয়েছি।তন্মধ্যে তার কাউন্সিলিং কর্মকান্ডগুলো আমার খুব নজর কেরেছে।যাওয়ার সময় আমার হাতে একটি অনুদান তুলে দিলেন।বুঝতে বাকি নেই তিনি অনলাইনে আমাদের social কাজগুলো খুটেখুটে দেখেছেন।

সেই মানুষকে কেন্দ্র করে একটি সাপ্তাহিক ম্যগাজিনে শিরোনাম দেখলাম-‘বাড্ডা থানার ওসি কাজী ওয়াজেদ আলীর সীমাহীন অপকর্ম ডিএমপিতেই একাধিকবার বরখাস্ত’

কৌতুহল বশত ভেতরের বিষয়বস্তু পড়ার সময় আমার চোখ কপালে উঠে।

“তিনি পুলিশের উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষকেও তোয়াক্কা করেন না। থানায় সেবা নিতে আসা ব্যক্তিদের রুক্ষ্ম মেজাজে ধমকিয়ে থাকেন। বলেন, “যান! আমি ওই আসামি ধরবো না, আমি ধরতে বাধ্য নই, আপনার কথা মতো কাজ করবো না, পারলে ডিসিকে বলেন। তিনি আমার কিছুই করতে পারবেন না।” ইত্যাদি ইত্যাদি।’’

অথচ তার ফেসবুক প্রফাইলে স্পষ্ট প্রমানিত হয় গুলশান বিভাগের ডিসি মোশতাক আহমেদ এর প্রতি শ্রদ্ধা ও সন্মান কতটুকু।

ঐ পরতিবেদনে আরো উল্লেখ করা হয় “থানায় সেবা নিতে আসা ব্যক্তিদের রুক্ষ্ম মেজাজে ধমকিয়ে থাকেন।’

উঠতি বয়সের ছেলেমেয়েরা পুলিশ কে সাধারনত ভয় পেয়ে থাকে কিন্তু ওসি কাজী ওয়াজেদ আলীর বিষয়টা একটু ভিন্ন।কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যায়নরত ছাত্র-ছাত্রি,বিভিন্ন এনজিও সহ তরুন রাজনিতিবীদ রা তার প্রশংসায় পঞ্চমুখ,এমনকি অনেকেই তার আদর্শে পথ চলতে চায়।

হাস্জ্জল এই মানুষটির ইতিবাচক কর্মকান্ডে কখনই তাকে উইস করা হয়নি। পুলিশের প্রতি আমার অদ্ভুত এলার্জী থাকায় কখনই তাকে বলা হয়নি….ভালোবাসি বড় ভাই তোমাকে।।

কাজী ওয়াজেদ আলীর প্রতি অন্যের বিশ্বাস ও ভালোবাসার মাঝে ক্ষোভ সৃষ্টির লক্ষে,আমি উক্ত প্রতিবেদনে তিব্র নিন্দা জ্ঞ্যপন করছি।।