মহান স্বাধীনতা দিবস আজ। বিশ্ব ইতিহাসে বাংলাদেশকে স্বাধীন-সার্বভৌম ঘোষণার দিন। স্বাধীনতার ৪৭তম বার্ষিকী উদযাপনের মহাসমারোহ সারাদেশে। শ্রদ্ধা-ভালবাসায় জাতি স্মরণ করছে দেশের জন্য আত্মোৎসর্গ করা বীর শহীদানকে, যার সঙ্গে উৎসব-আনন্দে মুখরিত পরাধীনতার শৃঙ্খল ভাঙা অনন্য মুক্তির মুহূর্ত।

১৯৭১ সালের এ দিনেই এসেছিল বাঙালির অবিসংবাদিত নেতা, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক স্বাধীনতার ঘোষণা। দখলদার পাকিস্তানিদের রুখে দাঁড়িয়ে বাঙালি ঝাঁপিয়ে পড়ে গৌরবের মুক্তিযুদ্ধে। বিশ্ব জানে- এ জাতি মাথা নোয়াবার নয়। এবার স্বাধীনতা দিবস উদযাপনে যোগ হয়েছে উন্নয়নশীল দেশের কাতারে বাংলাদেশের যুক্ত হওয়ার গৌরব।

স্বাধিকার আন্দোলন থেকে স্বাধীনতার সংগ্রাম, স্বাধীনতা ঘোষণা আর মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়া। একাত্তরের অগ্নিঝরা মার্চের দিনগুলোতে এভাবেই ক্ষোভে-দ্রোহে বাংলার মানুষ ফুঁসে উঠেছিল যুদ্ধের ময়দানে।

শান্ত, নিরস্ত্র বাঙালি জেগে উঠেছিল মুক্তিযুদ্ধে। খাল-বিল-নদী-নালায় ভরা সবুজ শ্যামল জনপদে দখলদার পাকিস্তানি বাহিনীর বিরুদ্ধে অভূতপূর্ব মুক্তিযোদ্ধাদের সেই গেরিলা প্রতিরোধ। কী করতে হবে বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণেই ছিল তার দিক নির্দেশনা।

একাত্তরের ৭ মার্চ থেকে ২৫ মার্চ- এই ১৯টি দিন পশ্চিম পাকিস্তানের ক্ষমতা আঁকড়ে থাকার ষড়যন্ত্র-নীলনকশা নতজানু হলো বঙ্গবন্ধুর প্রজ্ঞার কাছে।

পাকিস্তানিরা গণহত্যায় সবকিছু স্তব্ধ করতে চাইলেও সেই আত্মত্যাগ সবাইকে শামিল করে চূড়ান্ত মুক্তির সশস্ত্র লড়াইয়ে। এরকম কিছু ঘটতে পারে বঙ্গবন্ধু আগেই আঁচ করতে পেরেছিলেন প্রস্তুতি ছিলো তারও। তাই ২৬ মার্চ প্রথম প্রহরেই আসে স্বাধীনতার ঘোষণা।

স্বাধীনতার বিকল্প নেই- এই সংকল্পে হানাদারদের রাইফেল, কামান বা বোমারু বিমানের সামনে দাঁড়িয়ে যায় বাঙালি। অপ্রতিরোধ্য হয়ে উঠলো মুক্তিবাহিনী। জীবনবাজি রেখে যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ল মাতৃভূমিকে শত্রুমুক্ত করতে।

বীর জনতা যার কাছে যা আছে তা নিয়েই প্রশিক্ষিত আধুনিক এক সশস্ত্র হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুললো। জয়ের পতাকা উড়তে শুরু করলো বাংলার আকাশে যার শেষটা ১৬ ডিসেম্বর-এ মহান বিজয়ে।

৩০ লাখ শহীদ আর জানা-অজানা মেধা-মননের কাণ্ডারীদের প্রাণের বিনিময়ে যে বিজয় তার কতটুকু যথার্থভাবে উঠে আসছে ইতিহাস-গবেষণায় সেটা নিয়ে কথা বলেন দেশের বিশিষ্টজনেরা।

বাঙালি-বাংলাদেশকে স্বাধীন ঘোষণার সেই ক্ষণ, ২৬ মার্চ। তাই বরাবরই উৎসব-আড়ম্বরের এক দিন।

সেই উৎসবে এবার নতুন মাত্রা যোগ করেছে স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশের কাতারে উত্তরণের স্বীকৃতি। ভিন্ন আমেজে, নতুন উদ্দীপনায় তাই জাতি উদযাপন করছে এবারের স্বাধীনতা দিবস।

দেশ টিভি।

Please follow and like us:
error