সরকারি চাকরির কোটা ব্যবস্থার সংস্কারসহ পাঁচ দফা দাবিতে চাকরিপ্রার্থীদের আটক ওই তিন শিক্ষার্থীর মুক্তির দাবিতে রমনা থানায় গেলে আরও অর্ধশতক শিক্ষার্থীকে আটক করা হয়। এ ঘটনার প্রতিবাদে প্রায় সহস্রাধিক শিক্ষার্থী বিকেল থেকে শাহবাগ মোড়ে অবস্থান নেন। তাদের অবস্থানের কারণে শাহবাগ মোড় দিয়ে যান চলাচল সীমিত হয়ে পড়ে। রাজধানীর বিভিন্ন সড়কে তীব্র যানজট দেখা দেয়। দুর্ভোগে পড়েন অফিস ফেরত অসংখ্য যাত্রী।সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর বিপুল সংখ্যক সদস্য শাহবাগ মোড়ে অবস্থান নেন। আনা হয় জলকামান, দাঙ্গা দমনের গাড়িসহ (রায়ট কার) আনুষঙ্গিক উপকরণ।সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় রাত সোয়া ৯টায় আটক শিক্ষার্থীদের ছেড়ে দেয়া হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করে রমনা থানার ওসি কাজী মাইনুল ইসলাম বলেন, আটকদের জিজ্ঞাসাবাদ করে সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় রাত সোয়া ৯টায় আটক শিক্ষার্থীদের ছেড়ে দেয়া হয়।

আটক শিক্ষার্থীদের ছেড়ে দেয়ার খবর শাহবাগে আন্দোলনকারীদের কাছে পৌঁছালে তারাও আনন্দ মিছিল সহকারে অবস্থান কর্মসূচি থেকে সরে আসেন। এসময় শিক্ষার্থীরা শাহবাগ থেকে রাজু ভাস্কর্য পর্যন্ত আনন্দ মিছিল করে।

আটক শিক্ষার্থীদের ছেড়ে দেয়ার খবর শাহবাগে আন্দোলনকারীদের কাছে পৌঁছালে তারাও অবস্থান থেকে সরে আসেন।
শাহবাগে অবস্থান নিয়ে শিক্ষার্থীরা কোটা ব্যবস্থার সংস্কারের দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেন। একই সঙ্গে তারা আটক শিক্ষার্থীদের মুক্তিরও দাবি জানান।

শিক্ষার্থীরা জানান, আটকদের ছেড়ে না দেয়া পর্যন্ত তারা শাহবাগ মোড়ের অবস্থান থেকে সরে যাবেন না।

প্রসঙ্গত, সরকারি চাকরিতে ৫৬ শতাংশ কোটা কমিয়ে ১০ শতাংশে নিয়ে আসাসহ পাঁচ দফা দাবিতে গত কিছুদিন ধরে বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের ব্যানারে আন্দোলন করছেন সাধারণ শিক্ষার্থী ও চাকরি প্রত্যাশীরা।

বিভিন্ন সময়ের কর্মসূচির অংশ হিসেবে আজ জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় ঘেরাও কর্মসূচি ছিল তাদের। কিন্তু পুলিশ আন্দোলনকারীদের ওপর বিনা উস্কানিতে হামলা চালায়। এতে আহত হন ৫-৭ জন। আটক করা হয় অর্ধ শতাধিক শিক্ষার্থীকে।

আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালেয়ের শিক্ষার্থী হাসান আল মামুন বলেন, আমাদের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে পুলিশ বিনা উস্কানিতে হামলা চালায়। বেশ কয়েকজনকে আটক করে নিয়ে যায়। আটকদের ছাড়াতে থানায় গেলে আরও অর্ধশতক শিক্ষার্থীকে আটক করা হয়।

‘অবশেষে তাদের মুক্তি দেয়া হয়েছে। অনেকে অসুস্থ হয়ে পড়েছে। তিনজন হাসপাতালে ভর্তি। আমাদের দুপুর থেকে একটু পানিও দেয়া হয়নি। আমরা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বলেছি, বেকারদের দাবি শুনুন। ৩০ লাখ বেকারের কষ্ট শুনুন।’

আটকদের শাহবাগে ফুল দিয়ে বরণ করে নেয়া হয়। পরে মিছিল সহকারে টিএসসির রাজু ভাস্কর্যের সামনে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

হাসান আল মামুন আরও জানান, কোটা ব্যবস্থা সংস্কারের দাবিতে তাদের আন্দোলন চলবে।

তিন শিক্ষার্থীকে রমনা থানা থেকে ছাড়িয়ে আনতে গেলে পরে আরও চল্লিশজনকে আটক করা হয় বলে স্বীকার করেন ঢাকা মহানগর পুলিশের রমনা জোনের ডিসি মারুফ হাসান সরদার। তিনি বলেন, রাস্তা অবরোধ ও সরকারি কাজে বাধা দেয়ার অভিযোগে তাদের আটক কার হয়। পরে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করে ছেড়ে দেয়া হয়।

শিক্ষার্থীদের ৫ দফা দাবি হলো-
সরকারি নিয়োগে কোটার পরিমাণ ৫৬ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১০ শতাংশ করা, কোটার যোগ্য প্রার্থী না পেলে শূন্যপদে মেধায় নিয়োগ, কোটায় কোনো ধরনের বিশেষ নিয়োগ পরীক্ষা না নেয়া, সরকারি চাকরির ক্ষেত্রে অভিন্ন বয়সসীমা, নিয়োগপরীক্ষায় একাধিকবার কোটার সুবিধা ব্যবহার না করা।

Please follow and like us:
error