সোর্স ব্যবহারে ১০ দফা বিধিনিষেধ মেনে চলার পরামর্শ!

0
77

ডিএমপির নির্দেশনায় বলা হয়েছে- অপরাধ দমন, আইন-শৃঙ্খলা স্বাভাবিক রাখা ও ঘটনার নেপথ্য কারণ উদ্ঘাটনে গোপন তথ্য জানা অত্যন্ত জরুরি। বাংলাদেশ পুলিশসহ বিশ্বের সব পুলিশ তথ্যের ভিত্তিতে কাজ করে থাকে। সংঘটিত অপরাধ রহস্য উদ্ঘাটন ও প্রমাণের জন্য যেমন তথ্যের প্রয়োজন, তেমনি অপরাধ প্রতিরোধ ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায়ও তা দরকার। এটির জন্য পুলিশ নানা কৌশলের পাশাপাশি ‘সোর্স’ ব্যবহার করে থাকে। এই সোর্স কখনও কখনও পুলিশের সঙ্গে তাদের সম্পর্ককে নিজস্ব স্বার্থ রক্ষায় ব্যবহার করে। মিথ্যা তথ্য দিয়ে পুলিশকে বিভ্রান্ত করে তারা। এতে নিরীহ মানুষ হয়রানির শিকার হয় ও প্রকৃত অপরাধী সম্পর্কে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজর ভিন্নদিকে সরে যায়। এসব কারণে নিরপরাধ মানুষ হয়রানির শিকার হয়। অপরাধ উদ্ঘাটন ও প্রতিরোধের পথ হয় রুদ্ধ। এতে পুলিশের ভাবমূর্তি নষ্ট হয়। চিহ্নিত অপরাধী ও সমাজে এমন ব্যক্তির সঙ্গে সখ্য পুলিশ সম্পর্কে জনমনে নেতিবাচক ধারণার সৃষ্টি করে।

তাই সোর্স ব্যবহারে ১০ দফা বিধিনিষেধ মেনে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়। তা হলো- বিট পুলিশিং, উঠান বৈঠক ও কমিউনিটি পুলিশিং কার্যক্রম জোরদারের মধ্য দিয়ে পুলিশ-নাগরিক সম্পর্ক উন্নয়ন; পুলিশমুখী তথ্যপ্রবাহ সচল রাখা; জনপ্রতিনিধি, সংবাদকর্মীসহ স্থানীয় ব্যক্তিদের সঙ্গে সুসম্পর্ক অব্যাহত রাখা এবং এ সম্পর্ক তথ্যপ্রাপ্তির জন্য আরও সচেষ্ট হওয়া; নাগরিকদের সম্পর্কে নিয়মিত তথ্য সংগ্রহ করে ‘সিটিজেন ইনফরমেশন ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম’ সমৃদ্ধ করা; প্রযুক্তিনির্ভর পুলিশিং ব্যবস্থা জোরদার; থানাকে জনবান্ধব, নারীবান্ধব ও শিশুবান্ধব করা এবং জনমনে থানাভীতি দূর করা; চিহ্নিত অপরাধী বা দালাল যাতে থানা বা কোনো পুলিশি স্থাপনায় না আসে সেদিকে খেয়াল রাখা; তথাকথিত সোর্স ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ; জরুরি প্রয়োজনে যদি সোর্সের ওপর নির্ভর করে কোনো অভিযান করতেই হয়, সে ক্ষেত্রে সোর্স ও তার দেওয়া তথ্য যাচাই কর নিতে বলা হয়েছে। সোর্স ব্যবহারের এ বিধিনিষেধ থানার ওসি, জোনাল এসি, এডিসি ও ডিসি তদারক করবেন।

সোর্স যে কতটা বিপজ্জনক হতে পারে, তার আরেকটি উদাহরণ চট্টগ্রামের পুলিশ সুপার বাবুল আক্তারের স্ত্রী মাহমুদা খানম মিতু হত্যাকাণ্ডের ক্ষেত্রে দেখা গেছে। ওই হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের মধ্যে ‘ভালা ও মুছা’ দীর্ঘদিন বাবুল আক্তারের ‘বিশ্বস্ত সোর্স’ হিসেবে পরিচিত ছিল। এ ছাড়া

রাজধানী ও এর আশপাশ এলাকায় প্রায়ই সোর্স হত্যার ঘটনা ঘটছে। গত দুই বছরে রাজধানী ও এর আশপাশ এলাকায় অন্তত ১৫ জন সোর্স খুন হয়েছে। অধিকাংশ সোর্স নিজেরাই অস্ত্র ব্যবসা, মাদক, চাঁদাবাজি, ছিনতাইসহ নানা ধরনের অপরাধের সঙ্গে যুক্ত। আবার তারাই র‌্যাব-পুলিশের সোর্স হিসেবে কাজ করে। সোর্স হওয়ায় অপরাধ জগতে তারা বেপরোয়া হয়ে ওঠে। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে ধরিয়ে দেওয়া ও স্বার্থকেন্দ্রিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে পেশাদার অপরাধীদের সঙ্গে তাদের বিরোধ তৈরি হয়। এতে সুযোগ পেলেই পেশাদার অপরাধীরা সোর্স হত্যা করে। নিজেরা অপরাধের সঙ্গে যুক্ত থেকে অন্য অপরাধীদের ধরিয়ে দেওয়ার কাজ করে বলেই তাদের টার্গেট করে হত্যা করা হয়। তবে ব্যতিক্রমও রয়েছে। কিছু ঘটনায় সোর্সের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অনেক ক্লুহীন ঘটনার রহস্য উন্মোচিত হওয়ার নজিরও রয়েছে।

Please follow and like us: