রাজধানীতে পুলিশের সহযোগিতায় বাড়ে সোর্সের দৌরাত্ম্য!

0
210

পুলিশের সোর্সরা মূলত এরা সবাই দাগি অপরাধী। সোর্স পরিচয়ে দিন দিন বেপরোয়া হয়ে উঠছে তারা। বিভিন্ন অপরাধী গ্রেফতারে পুলিশ এদের সহযোগিতা নেয়।বিভিন্ন সময় পুলিশের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ইভটিজিং, ভিকটিমকে হয়রানি, হত্যাকাণ্ডসহ নানা অপকর্মের ঘটনা ঘটেছে। এর বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই নেতৃত্বে থাকে সোর্স আর পেছনে পুলিশ। সাধারণত অপরাধী সনাক্ত ও তদন্ত সংশ্লিষ্ট কাজেই সোর্সের সহযোগিতা নিয়ে থাকে পুলিশ।
শুধু তাই নয়, রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় রাস্তাঘাটে তল্লাশির নামে সোর্সদের ‘ফিটিং’ বাণিজ্য এখন ওপেন সিক্রেট। রাতে চলাচলরত মানুষকে তল্লাশির নামে পকেটে ইয়াবা কিংবা গাঁজার পুরিয়া দিয়ে ফিটিং দেয়ারও অভিযোগ রয়েছে সোর্সদের বিরুদ্ধে। আবার কখনও কখনও মিথ্যা মামলার ভয় দেখিয়েও এরা নিরপরাধ মানুষের অর্থকড়ি হাতিয়ে নেয়। রাজধানীর পাড়া-মহল্লায় এখন আতঙ্কের নাম পুলিশের সোর্স। তবে বেশ কিছু ঘটনায় পেশাগত কাজের বাইরে সোর্সদের সহযোগিতায় ব্যক্তিগত স্বার্থ হাসিলের ঘটনায় ফেঁসে গেছে কয়েক পুলিশ সদস্য। সম্প্রতি পুলিশ-সোর্সের সম্পর্ক বেশ দূরত্ব। সোর্সরাও গা ঢাকা দিয়েছেন।

গত শুক্রবার দুপুরে রামপুরা বনশ্রীর ই ব্লক একটি বাসা থেকে সোর্স রহমান,লুঙ্গি ফারুক ও জলিল ডেকে নিয়ে যান স্থানীয় যুবক জাহাঙ্গির কে পরে খিলগাও থানার এক পিকআপে তাকে উঠানো হয়।খিলগাও থানায় রাত নয়টায় ফোন করে জানা যায় জাহাঙ্গির নামে কোন ব্যক্তি আটক হয়নি এবং ডে শিফট এ যার ডিউটি ছিলো তিনি রাত আট টায় ডিউটি শেষ করে বাসায় গিয়েছেন। তাছাড়া বনশ্রির ই ব্লক তাদের আওতায় নয়,রামপুরা থানায় খোজ করার জন্য বলা হয়েছে।রামপুরা থানায় গিয়েও জাহাঙ্গির এর তথ্য পাওয়া যায়নি।সর্বশেষে সোর্সরা ভিকটিম এর পরিবার কে অবগত করে জানান,তাদের কাছে আছেন।জাহাঙ্গির কে রাত এগারোটার সময় খিলগাও থানাধিন গেটের সামনে থেকে নগদ ত্রিশ হাজার টাকার বিনিময়ে মুক্ত করেনভিকটিম এর পরিবার।বিষয়টা কাউকে না জানানোর জন্য হুশিয়ার করা হয় ।ভিকটিমের পকেটে থাকা তেরো হাজার টাকা ও গাড়িতে উঠার সময় সোর্স রহমান ও জলিল কেড়ে নেন। মান সন্মান এর কথা ভেবে ভিকটিম এর পরিবার বিষয়টি চেপে যান।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, রাজধানীর প্রতিটি থানা এলাকায় অর্ধশত খাত থেকে সোর্সরা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নাম ভাঙিয়ে নিয়মিত চাঁদাবাজি করে আসছে। মামলা পাল্টা-মামলা, চার্জশিট ইত্যাদির নামেও তদবির করে সোর্সরা বিশাল অংকের টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। অথচ পুলিশের সোর্স রাখার কোনও বিধান আইনের কোথাও নেই। ফৌজদারি কার্যবিধি কিংবা পুলিশের পিআরবি’র (পুলিশ রেগুলেশন অব বাংলাদেশ) কোথাও পুলিশের সোর্স রাখা বা পালনের বিষয়টিও উল্লেখ করা নেই।

পুলিশ সূত্র জানায়, আসামি ধরা ও অপরাধীদের স্পট খুঁজতে ব্যক্তিগতভাবে সোর্সের সহযোগিতা নিতে পারে। তবে থানায় সোর্সের আনাগোনাও রাখা যাবে না এমনটাই নির্দেশনা ছিল পুলিশ সদর দফতর থেকে। কোনো কোনো সময় নিজেদের পুলিশ পরিচয় দিয়েও এরা বিভিন্ন বাসা-বাড়িতে তল্লাশি চালায়। আবার মামলার আসামি কিংবা বাদীর পক্ষ নিয়ে প্রতিপক্ষকে হুমকি-ধমকি দেয়। বিভিন্ন থানায় এসআই পদমর্যাদার পুলিশের সঙ্গে এ সোর্সদের যোগাযোগ বেশি। এদের সহযোগিতা নিয়েই তারা বিভিন্ন মামলার তদন্তে যান।

সম্প্রতি একটি গোয়েন্দা প্রতিবেদনেও বলা হয়েছে, কিছু অসাধু পুলিশ সদস্য ও সোর্স মিলে চাঁদাবাজি করছে। এ পরিপ্রেক্ষিতে ডিএমপি সদর দফতর থেকে থানায় থানায় চিঠি দিয়ে সোর্স নামধারী অপরাধীদের ব্যাপারে ওসিদের সতর্ক হতে বলা হয়েছে। এরপরও থামছে না সোর্সদের তৎপরতা।

পুরান ঢাকা এবং মিরপুরে সোর্সদের তৎপরতা বেশি। কদমতলী থানার জুরাইনে একাধিক বাসিন্দা যুগান্তরকে বলেন, থানা পুলিশের সোর্স সোহেল ও কামাল এলাকায় রীতিমতো অত্যাচার চালায়। এদের যন্ত্রণায় অনেকেই অতিষ্ঠ। এরা সন্ধ্যার পরে সাধারণ মানুষকে দাঁড় করিয়ে চেক করার নামে পকেটে ইয়াবা কিংবা গাঁজা ঢুকিয়ে দিয়ে হয়রানি করে।

লালবাগে পুলিশের সোর্সরাও বেপরোয়া। এ এলাকায় বিল্লাল, রব, আলমগীরসহ অন্য সোর্সরা সাধারণ মানুষকে নানাভাবে হয়রানি করে। ভয়ে লোকজন এদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করার সাহস পান না।

মিরপুরেও সোর্সের অত্যাচারে সাধারণ মানুষ অতিষ্ঠ। মিরপুর বেনারসী পল্লী এলাকার এক গার্মেন্ট ব্যবসায়ী যুগান্তরকে বলেন, সোর্সরা এলাকায় পুলিশের চেয়েও বেশি ক্ষমতার দাপট দেখায়। এরা মানুষের সঙ্গে যা ইচ্ছা তাই ব্যবহার করে।

পুলিশের মহাপরিদর্শক একেএম শহীদুল হক বলেন, অপরাধ করে কেউ পার পাবে না।

তিনি বলেন, সোর্সদের সব ধরনের অপরাধ-অপকর্মের ব্যাপারে পুলিশ কর্মকর্তাদের কঠোর ভূমিকা নেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। কোথাও সোর্সরা হয়রানি করেছে এমন অভিযোগ পাওয়া গেলে সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের উপ-কমিশনার মাসুদুর রহমান বলেন, সোর্সদের মাধ্যমে কেউ হয়রানির শিকার হলে বা সোর্সদের কোনো অপকর্ম ধরা পড়লে সঙ্গে সঙ্গে এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেয়া হবে। কেউ যাতে পুলিশের নাম ব্যবহার করে কোনো অপরাধ না করতে পারে সে ব্যাপারে পুলিশ আগের চেয়ে অনেক বেশি সতর্ক।

সোর্সরা কে কোথায় : রাজধানীর প্রত্যেক থানা এলাকায় রয়েছে সোর্সদের দৌরাত্ম্য। মিরপুর ও কাফরুলে শাহীন, খ্রিস্টান বাবুু, তামান্না তামু, বাবু, সুমন, মোশারফ, রাজু ও আলমগীর পুলিশের সোর্স পরিচয়ে এলাকায় দাপটের সঙ্গে নানা অপরাধ চালিয়ে আসছে। এছাড়া পল্লবীতে দেলোয়ার, তারেক, রাজু, সাইফুল ও রহমান।

শাহবাগে ফর্মা কাদের, নিউমার্কেটে নাদিম ও কাইল্যা বাবু, লালবাগ ও চকবাজারে আবদুর রব, আলমগীর, বিল্লাল, বাসেত, আজমল, তৌহিদসহ আরও কয়েকজন। হাজারীবাগে শাহজাহান, জসিম, রনি ও ওয়াসিম।

কামরাঙ্গীরচরে সোহেল, সিডি মিন্টু, আরিফ, আশরাফ। ধানমণ্ডি ও কলাবাগানে মিন্টু, নাজির, ফাতেমা ও লাল চান, মোহাম্মদপুরে জয়নাল, হানিফ ও রাসেল। গুলশানে ফর্মা স্বপন ও নাদিম।

শ্যামপুর, কদমতলী ও গেণ্ডারিয়ায় আমির, সোহেল, সোহাগ, কামাল, জাহাঙ্গীর, শিপন, ভাগিনা রবিন, রহিম, নজরুল, লালু ও আলী। যাত্রাবাড়ীতে আলতাফ, মাসুম, শাহ আলম, সুমন, শাহীন, সালাম, ফর্মা সিরাজ, লালন, ডেঙ্গু, রেলি, শামীম, রাজু, পটপট বাবু, ইমন।

ডেমরায় বাবু সেলিম, সূত্রাপুর ও কোতোয়ালিতে জামান, লিটন, শম্ভু, মনোয়ারা, সেলিম, ফেনসি রমজান, ইয়াবা জিলু, কানাই, সামসু, জাহাঙ্গীর, শাকিল, সুজন, মাসুদ, সাব্বির, বাবলু, শফিক ও মুজিবর। পল্টনে মরিয়ম, আজমল, শাহাবউদ্দিন, খলিল।

সবুজবাগে বজলু, রমনায় হেরোইনচি স্বপন, মালেক, খলিল ও আক্তার। খিলগাঁওয়ে লুঙ্গি মিজান,রহমান,জলিল,রনি কানা নূরুল ইসলাম ওরফে তুহিন, তালতলার ডিবি ফর্মা রাজীব, র‌্যাব বাবুল, আজাহার ওরফে আদার, সেলিম, মর্তুজা, সাগর, আলমগীর, ফর্মা খালেক উল্লেখযোগ্য।

শাহজাহানপুর থানায় সোর্স হিসেবে পরিচয় দেয় সনিয়া, জলিল, হালিম, বাবলা ও হানিফ। বাড্ডায় বরিশাইল্যা রফিক, গ্রিল জামাল, ক্যাশিয়ার দুলালের ভাই ফর্মা বিল্লাল, সাঁতারকুলের বাবা শাহীন, রব, বাপ্পি, সুমন, মোটা বিপ্লব, ডিলা, আব্বাস, ভাটারার বাংলা নাছির, আলমগীর, ইয়াবা নাঈম, ফর্মা লিটন সোর্স পরিচয়ে এলাকায় দাপটের সঙ্গে নানা অপকর্ম চালায়। এদের ভয়ে কেউ টুঁ শব্দও করেন না।

বর্তমান পুলিশ মহাপরিদর্শক দায়িত্ব নেয়ার পরেই বলেছিলেন যে থানার সামনে সোর্সের আনাগোনা দেখা যাবে সেই থানা ওসির বিরুদ্ধে নেয়া হবে ব্যবস্থা। তবে সে কথার হাল আমলে ব্যত্যয় ঘটেছে। বেশ কয়েকটি ঘটনায় সোর্সের সহযোগিতায় পুলিশ সদস্যরা অপকর্মে জড়িয়েছেন। এজন্য কয়েকটি থানার এসআই, এএসআই ও কনস্টেলকে প্রত্যহার ও সাসপেন্ড করা হয়েছে। বদলি করা হয়েছে ৫ থানার ওসিকেও। সম্প্রতি সোর্সের সহযোগিতায় পুলিশ সদস্যদের অপরাধের খবর চাউর হওয়ায় চলাফেরায় সোর্সের সঙ্গ ত্যাগের নির্দেশনা দিয়েছে ডিএমপি সদর দফতর।

ডিএমপি, থানা পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত সপ্তাহে রাজধানীর শাহ আলী থানা এলাকায় চাঁদা না দেয়ায় পুলিশের সামনেই কয়েকজন সোর্স চা-দোকানি বাবুল মাতব্বরকে (৫০) কেরোসিনের আগুনে পুড়িয়ে হত্যা করে। ঘটনার তদন্তে পুলিশের দায়িত্ব অবহেলা ও সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেছে। পুলিশের সামনেই সোর্স দেলোয়ার, আয়ুব আলী ও রবিনসহ আরো কয়েকজন বাবুলকে আগুনে পোড়ালেও বাঁচাতে এগিয়ে আসেনি কোনো পুলিশ সদস্য। এ ঘটনায় বরখাস্ত করা হয়েছে তিন এসআইসহ ৫ পুলিশ সদস্যকে। প্রত্যাহার হয়েছে থানার ওসি একেএম শাহীন মণ্ডলকেও।

গত ১৭ জানুয়ারি কাফরুল এলাকায় সাবেক এক সিনিয়র সহকারী সচিবের ছেলের পকেটে হাত দিয়ে ইয়াবা দিয়ে দেয় পুলিশের দুই সোর্স। পরবর্তীতে পুলিশ ওই ছেলেকে আটক করে মিরপুরের বিভিন্ন এলাকায় ঘুরায়। এক লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। যদিও পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের হস্তক্ষেপে তাকে ছেড়ে দেয়া হয়।

২৪ জানুয়ারি উত্তরায় কথিত সোর্সের মাধ্যমে এক তরুণ ব্যবসায়ীকে আটক করে আড়াই লাখ টাকা দাবি করে পুলিশ। এর সঙ্গেও সোর্সের যোগসাজশের অভিযোগ রয়েছে।

২০১৪ সালে সোর্স খোকন, নাসিম, ফয়সাল ও পলাশের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে ঝুট ব্যবসায়ী মাহবুবুর রহমান সুজনকে ধানমন্ডি থেকে আটক করে মিরপুর থানার এসআই জাহিদুর রহমান। পুলিশের আতঙ্কে তিনি মিরপুর ছেড়ে ধানমন্ডিতে পালিয়ে ছিলেন। তবে এসআই জাহিদুর রহমান, এএসআই রাজকুমার, ও দুই কনস্টেবল মিলে থানা হাজতে ওই ব্যবসায়ীকে ধরে এনে নির্যাতন চালালে মারা যান তিনি। ওই ঘটনায় এসআই জাহিদুর ও সোর্স নাসিম কারাগারে রয়েছেন।

বনানী থানা পুলিশের সোর্স শহীদের বিরুদ্ধে অবৈধ অস্ত্রবহন-ব্যবহার, হুমকি-ধামকি দিয়ে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে। ওই এলাকায় নকল এবং আসল হিজড়াদের মধ্যে বিরোধ আছে। যার সুযোগ নিয়েছে পুলিশ ও কথিত সোর্স শহীদ। তিনি আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে ঘুরে বেড়ায়।

গত বছরের মার্চে পুলিশের সোর্স শিমু আক্তার ওরফে সুমিকে (২৩) হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। তদন্তে মতিঝিলে সুমি খুনের ঘটনার পেছনে মাদক ব্যবসা ও পুলিশের সোর্স হয়ে কাজ করার কারণ খুঁজে পায় ডিবি পুলিশ।

২০১৩ সালের জানুয়ারিতে মিরপুরের মধ্য পীরেরবাগে ব্যবসায়ী জিয়া হায়দার হত্যায় মনির হোসেন নামে এক সোর্সের সংশ্লিষ্টতা পায় পুলিশ। তাকে অভিযুক্ত করে চার্জশিট দেয়া হয়েছে।

গত বছরের জুলাইয়ে দক্ষিণ খিলগাঁওয়ের এক নারী বাসিন্দা ডিএমপি সদর দফতরে জলিল ও খাদেম নামে দুই সোর্সের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ করেন। এর কিছু সময় পরেই খিলগাঁও থানার সিভিল টিম এসে তার স্বামীকে ধরে নিয়ে যায়। পরে সোর্সদের কাছে ২০ হাজার টাকা দেয়ার পর ছাড়া পান তিনি।

ব্যবসায়িক দ্বন্দ্বের কারণে ২০১৪ সালের ২৪ নভেম্বর সবুজবাগে মিজানুর রহমান ও আমানুল্লাহ নামে পুলিশের দুই সোর্সকে পিটিয়ে ও ছুরিকাঘাত করে আহত করে প্রতিপক্ষ মাদক ব্যবসায়ীরা। গাবতলীতে পুলিশের ছত্রছায়ায় এই সোর্সরাই দাপট ও ক্ষমতার চর্চা বেশি করেন। চাঁদাবাজিতে যেন সোর্স-পুলিশ মাসতুতো ভাই!

রাজধানীর প্রতিটি থানা এলাকায় এই সোর্স দৌরাত্ম্য রয়েছে। গোয়েন্দাদের কাছে এই অপরাধী কথিত সোর্সদের তালিকাও রয়েছে। এরকম রাজধানীর প্রায় সব থানাতেই সোর্সের দৌরাত্ম্য রয়েছে।

এ ব্যাপারে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান ড. মিজানুর রহমান সম্প্রতি ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করতে গিয়ে বলেন, ‘পুলিশের স্পর্ধা ও বেআইনি কর্মকাণ্ড সীমা ছাড়িয়েছে। পুলিশ আজ প্রজাতন্ত্রের জন্যও লজ্জার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। মানুষের অধিকার রক্ষায় পুলিশ নিয়োজিত, মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেয়ার জন্য নয়।’

ঢাকা মহানগর পুলিশের মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের উপ-কমিশনার (ডিসি) মারুফ হোসেন সরদার বলেন, পুলিশের সোর্স পরিচয়ে কেউ যদি চাঁদাবাজি করে, বিষয়টি কারো দৃষ্টিগোচর হলে তাৎক্ষণিক পুলিশের কাছে অভিযোগ করবেন। পুলিশ তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে। আমাদের অবস্থান জিরো টলারেন্স, কাউকে ছাড় দেয়া হবে না।

Please follow and like us: