:স্টাফ করেসপন্ডেন্ট

প্রথমে মোবাইলে অচেনা নম্বর থেকে মিসকল। তারপর কথাবার্তার এক পর্যায়ে প্রেম। প্রেমের টানে বাড়ি থেকে পলায়ন। অতঃপর প্রতারণার শিকার হয়ে সব হারিয়ে সেই মেয়ে এখন ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের সিক বেডে। সম্প্রতি এমন চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটে রাজধানীর দারুসসালাম এলাকায়।

থানা সূত্রে জানা গেছে, টাঙ্গাইলের ঘাটাইল সিংগুরিয়া মহিলা বিএম কলেজের প্রথম বর্ষের এক ছাত্রীর সঙ্গে মোবাইলে মিসকলের সূত্র ধরে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে রাজধানী বাড্ডার মো. শরিফুল ইসলাম ওরফে সজীব (২৪) নামে এক যুবকের। ধীরে ধীরে জমে উঠে তাদের সম্পর্ক। বিয়ের কথা বলে গত ২৮ সেপ্টেম্বর টাঙ্গাইলের এলেঙ্গা থেকে ওই ছাত্রীকে ঢাকায় নিয়ে আসেন সজীব। গাবতলীতে পৌঁছুতে সন্ধ্যা হওয়ায় মেয়েটিকে নিয়ে দারুসসালামের একটি হোটেলে ওঠে ওই যুবক। রাতে মেয়েটির সঙ্গে দৈহিক মেলামেশা করতে চাইলে বিয়ে না হওয়া পর্যন্ত কোনও দৈহিক সম্পর্কে জড়াবে না বলে জানায় ওই কলেজ শিক্ষার্থী। এক পর্যায়ে সজীব কিছুটা জোরজোরি করতে চাইলে মেয়েটি হোটেলে চিৎকার করবে, লোক ডাকাডাকি করবে বলে সজীবকে সর্তক করে।

এভাবেই কোনমতে ওই হোটেলে একটি রাত পার করে তারা। পরদিন সকালে মেয়েটি ফ্রেস হওয়ার জন্য ওয়াশরুমে গেলে মেয়েটির সঙ্গে করে নিয়ে আসা ৩০ হাজার ৫০০ টাকা ও স্বর্ণের কানের দুল নিজের হস্তগত করে সজীব। মেয়েটি বাথরুম থেকে বের হলে সজীব বিয়ের জিনিসপত্র কেনা ও ঘর ভাড়া করার কথা বলে তাড়াহুড়া করে হোটেল থেকে নিচে নেমে আসে এবং টাকা ভাংতি করা কথা বলে পাশের দোকানে গিয়ে চম্পট দেয়।

এই প্রথম একা বাড়ি থেকে ঢাকায় আসা, তার উপর আবার পালিয়ে। সজীব তাকে ফেলে চলে যাওয়ার পরও মেয়েটির বিশ্বাস ছিল যে সে ফিরবে। অপেক্ষার প্রহর যেন কিছুতেই শেষ হচ্ছিল না মেয়েটির। সজীবের মোবাইলে ফোন দিয়ে দেখে ফোন বন্ধ। মেয়েটির মাথায় যেন আকাশ ভেঙে পড়ে। সে গাবতলী বাস টার্মিনাল এলাকায় হন্যে হয়ে খুঁজতে থাকে সজীবকে। মেয়েটির এই অবস্থা দেখে হুমায়ুন কবির ওরফে সাকিল (২৮) নামে আরেক ব্যক্তি তার বিষণ্নতার কারণ জানতে চান। মেয়েটি সরল বিশ্বাসে পূর্বের সব ঘটনা খুলে বলে এবং গাজীপুর বাসের কথা তাকে জিজ্ঞেস করে। সারাদিন ঘোরাঘুরিতে ক্লান্ত মেয়েটি মাথা ব্যাথায় ভুগতে থাকে। তখন সাকিল তাকে ব্যাথা সারার জন্য ট্যাবলেট খাওয়ায় এবং দুপুর দেড়টার দিকে তাকে নিয়ে আরেকটি হোটেলে ওঠে। এরপর সেখানে তাকে রুটি খাওয়ায় এবং তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে জোরপূর্বক তাকে ধর্ষণ করে। মেয়েটি জ্ঞান হারিয়ে ফেলে। যখন জ্ঞান ফেরে ততক্ষণে সাকিলও সটকে পড়ে।

পরবর্তীতে মেয়েটি সাকিলকে খুঁজতে থাকে। খুঁজতে যেয়ে রাস্তায় অসুস্থ হয়ে পড়লে সেখানকার জীবন নামের এক সিকিউরিটি গার্ড তাকে চিকিৎসার জন্য প্রথমে স্থানীয় একটি হাসপাতালে পরে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এবং সবশেষ ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে জরুরি বিভাগে নিয়ে যান। মেয়েটি এখন ঢামেকে চিকিৎসাধীন আছেন।

ইতোমধ্যে এ ঘটনায় দারুসসালাম থানা পুলিশ অভিযান চালিয়ে ঘটনার সঙ্গে জড়িত দু’জনকেই গ্রেফতার করেছে। সাকিলের কাছে কিছু না পেলেও গ্রেফতারকৃত ভণ্ড প্রেমিক সজীবের কাছ থেকে পুলিশ ১৭ হাজার টাকা উদ্ধার করেছে।

এদিকে সজীব ও সাকিল দুজনই আদালতে এ ঘটনায় জড়িত থাকার বিষয়ে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন

Please follow and like us:
error