স্টাফ রিপোর্টার, ময়মনসিংহ থেকে

ময়মনসিংহের গৌরীপুরে খুঁটিতে বেঁধে নির্যাতনে নিহত কিশোর সাগর ওরফে টোকাই সাগরের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। গতকাল গৌরীপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলের পাশেই একটি ছনখেত থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে। হত্যার শিকার ১৬ বছর বয়সী সাগর ময়মনসিংহ শহরের শিববাড়ি রেল লাইন বস্তির বাসিন্দা ছিল। গতকাল তাকে গৌরীপুরে পিটিয়ে হত্যার পর মৃতদেহ গুম করা হয়। খবর পাওয়ার পর মৃত সাগরের বাড়ি শিববাড়ি বস্তিতে চলছে শোকের মাতম। পরিবারের লোকজন বলছেন, খুন হওয়া কিশোর সাগর টোকাই শ্রমিকের কাজ করতো। তার বাবা শিপন নেশাগ্রস্ত। সাগর পাঁচ ভাই ও দুই বোনকে নিয়ে ময়মনসিংহ শহরের শিববাড়ি রেল লাইন বস্তিতে একটি ঝুপড়ি ঘরে বসবাস করতো। টোকাই পেশাবৃত্তির আয় দিয়ে মায়ের উপার্জনের সঙ্গে সমন্বয় করে জীবন কাটাতো অতিকষ্টে। গৌরীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা দেলোয়ার আহাম্মদ মুক্ত খবর কে জানান, মরদেহ উদ্ধারের পর গৌরীপুর থানায় আনা হয়েছে। ময়না তদন্তের জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে। ওসি বলেন, পরিবার থেকে মামলা দিলে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে। সোমবার সকালে গৌরীপুর উপজেলার ডৌহাখলা ইউনিয়নের চর শিরামপুর গ্রামের আক্কাস আলী, তার ছেলে ও ভাইয়েরা মিলে চুরির অপরাধে সাগরকে পিটিয়ে হত্যা করে লাশ ছনখেতে গুম করে রাখে। গতকাল  সকালে পুলিশ সেই লাশ উদ্ধার করেছে। আক্কাস আলী স্থানীয় আওয়ামী লীগের সক্রিয় কর্মী। ঘটনার পর থেকেই আক্কাস আলী ও তার পরিবারের সদস্যরা পালিয়েছে। পুলিশ তাদের ধরার চেষ্টা করছে।
যেভাবে হত্যা করা হয় সাগরকে: চোর সন্দেহে সোমবার ভোরে সাগরকে আটক করেন আক্কাস আলী ও তার পরিবারের সদস্যরা। তিনি পরিত্যক্ত গাউসিয়া ফিশারির মালিক। ফিশারির সাইনবোর্ডের খুঁটির সঙ্গে বেঁধে সাগরকে আক্কাস আলী ও তার পরিবারের সদস্যরা লাঠিসোটা ও গাছের ডাল দিয়ে বেধড়ক পিটুনি দেয়। এ সময় তার শরীর বেয়ে ফোঁটায় ফোঁটায় রক্তের ধারা নেমে এসে ভিজিয়ে দেয় মাটি। পরে মৃত জেনে হাসপাতালে নেয়ার কথা বলে সাগরের লাশ একটি অটোতে করে তুলে নিয়ে যায় অজানা স্থানে। সুযোগ বুঝে আবার ফিরে আসে ঘটনাস্থলের পাশেই ছনখেতে রাখে। সেখানেই মাটিচাপা দিয়ে লাশ গুম করে আক্কাস আলী। পুলিশ গতকাল সকালে অভিযান চালিয়ে ছনক্ষেত থেকে সাগরের লাশ উদ্ধার করে। কিন্তু প্রত্যক্ষদর্শীরা এসব কথা জানলেও নিষ্ঠুর ও প্রভাবশালী আক্কাস আলীর ভয়ে তাদের নাম প্রকাশ না করার শর্ত দিয়েছেন সবাই। এ বিষয়ে ডৌহাখলা ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি ও ইউপি মেম্বার আবুল কালাম বলেন, হ্যাঁ, তিনি ঘটনাটি শুনেছেন কিন্তু যাকে মারধর করে হত্যা করা হয়েছে তাকে এলাকার কেউ চেনে না। সে বহিরাগত। ডৌহাখোলা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও চেয়ারম্যান শহিদুল হক সরকার বলেন, ভোর পাঁচটায় এক যুবক আমাকে ফোন করেছিল। সন্ধ্যায় সে সরাসরি তাকে ঘটনাটি জানিয়েছে। অনেকের মোবাইল ফোনে খুঁটিতে বাঁধা রক্তাক্ত শরীর মাথা নিচে হেলে পরা ছবিটি তিনিও দেখেছেন। তাতে মনে হয়েছে সে মৃত, যোগ করেন শহীদুল। ঘটনার পর থেকেই আক্কাস আলী ও তার পরিবারের সদস্যরা পলাতক বলেও জানান ওসি।

Please follow and like us:
error