সাজ্জাদুর রহমান (সিলেট প্রতিনিধি):

অবিভক্ত বাংলার আসাম প্রদেশের তৎকালীন শিক্ষা ও সমাজকল্যাণ মন্ত্রী মরহুম মৌলভী আব্দুর রশীদ চৌধুরী মিনিস্টার সাহেবের স্মরণে প্রথমবারের মতো স্মরণ সভা ও দোয়া মাহফিল লক্ষীপাশা ইউনাইটেড ওয়েলফেয়ার এসোসিয়েশন এর উদ্যোগে অনুষ্টিত হয়েছে। এতে সভাপতিত্ব করেন জনাব নাজমুল ইসলাম চৌধুরী,সভাপতি লক্ষীপাশা প্রাইমারী স্কুল।অন্যতম আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সিলেট বিভাগ উন্নয়ন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা জনাব ওয়েছুর রহমান চৌধুরী। আলোচনা করেন গোলাপগঞ্জ উপজেলা গণদাবী পরিষদের সভাপতি,বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ জনবন্ধু ডাঃ হাবিবুর রহমান, উপস্থিত ছিলেন লক্ষীপাশা ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান মাহমুদ আহমদ,মিনিস্টার সাহেবের জীবনীর উপর আলোচনা করেন ডাঃ মুহিত আহমদ চৌধুরী, উপস্থিত ছিলেন মাওলানা আব্দুল হক শায়খে লক্ষীপাশি, শফিকুর রহমান চৌধুরী, বশির উদ্দিন মেম্বার, সামছুল ইসলাম চৌধুরী, ফজলু মিয়া মেম্বার,এমরান আহমদ চৌধুরী, তোফায়েল আহমদ চৌধুরী,ইউনাইটেড ওয়েলফেয়ার এসোসিয়েশন এর সভাপতি আজহার মোস্তফা চৌধুরী,সহ সভাপতি আছাদুর রহমান চৌধুরী,আহমদ মনসুর,আব্দুস সামাদ আজাদ সহ সংস্থার অন্যান্য নেতৃবৃন্দ। পবিত্র কোরআন থেকে তিলাওয়াতের মাধ্যমে শুরু হওয়া সভা পরিচালনা করেন ইউনাইটেড ওয়েলফেয়ার এসোসিয়েশন এর সাধারণ সম্পাদক বিন ইয়ামিন চৌধুরী। এতে মূল আলোচক হিসেবে বক্তব্যে , সিলেট বিভাগ আন্দোলনের অন্যতম প্রতিকৃৎ, সিলেট বিভাগ উন্নয়ন পরিষদ এর সংগ্রামী সাধারণ সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা জনাব ওয়েছুর রহমান চৌধুরী তার বক্তব্যের শুরুতে প্রায় ৫৫ বছর পর ইউনাইটেড ওয়েলফেয়ার এসোসিয়েশন লক্ষীপাশা এই মহৎকর্মের আয়োজন করায় তাদের প্রতি ধন্যবাদজ্ঞাপন করেন। পাশাপাশি এরকম উদ্যোগ এর প্রতি উৎসাহদান এবং সহযোগিতা করার আহ্বান জানান। তিনি বলেন মরহুম মিনিস্টার সাহেব জীবনের প্রতিটি মুহূর্ত মানবতার কল্যাণে কাজ করে গেছেন। লক্ষীপাশা তথা সিলেটবাসী উনার অবদান কোনদিন ভুলবে না। ঢাকা দক্ষিণ – মোগলাবাজার সড়কের প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে মিনিস্টার সাহেবের নামে এর নামকরণের মতামত জানতে চাইলে উপস্থিত সকলে এই প্রস্তাবের সমর্থন জানান। গোলাপগঞ্জ থানা গণদাবী পরিষদের সভাপতি জনবন্ধু ডাঃ হাবিবুর রহমানও মিনিস্টার সাহেবের কৃর্তীমান জীবনের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে উনাকে যথাযথ সম্মান করার আহবান জানান। মুক্তিযোদ্ধের সংগঠক ও মুক্তিযোদ্ধা ডাঃ মুহিত আহমদ চৌধুরী মিনিস্টার সাহেবের জীবনি লিখছেন বলে জানান এবং লিখিত কিছু অংশ পড়ে শোনান। উল্লেখ্য মরহুম আব্দুর রশীদ চৌধুরী রাহ. ১৮৯৬ সালে গোলাপগঞ্জ থানাধীন লক্ষীপাশা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ফুলবাড়ি মাদ্রাসায় শিক্ষাজীবন শুরু করেন। ছাত্র থাকাকালীন দেশের বিভিন্ন আন্দোলনে জড়িয়ে পড়েন। কলকাতা মাদ্রাসায় থাকাকালীন তিনি রাজনীতিতে সক্রিয় হোন। ১৯২২ সালে এক জ্বালাময়ী বক্তব্যের কারণে তিনি গ্রেফতার হোন। ১৯৩৫ সালে অল ইন্ডিয়া কংগ্রেস তাকে আসাম প্রদেশের নমিনেশন দেয়। নির্বাচনে অংশ নিলেও তিনি আব্দুল মতিন কলা মিয়া সাহেবের সাথে পরাজিত হোন। ১৯৪৫ সালে তিনি জয়লাভ করেন,তার প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন সখাতুল আম্বিয়া। ১৯৪৭ সালে তিনি আসাম প্রদেশের শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় এর দায়িত্ব পান।তিনি ১৯৩৫সালে আল্লামা হুসাইন আহমদ মদনী রাহ. এর নেতৃত্বে জমিয়তে উলামায়ে হিন্দে যোগ দেন এবং উনার কাছে বায়াত হোন। দেশভাগ হলে ১৯৪৭ সালে মুসলিম লীগে যোগ দেন।তখনকার প্রধানমন্ত্রী নুরুল আমিনের মাধ্যমে ঢাকাদক্ষিণ-মোগলাবাজার সড়ক প্রতিষ্ঠা করেন। এছাড়াও সিলেট টেকনিক্যাল কলেজ,রসময় মেমোরিয়াল স্কুল,লক্ষীপাশা মুরাদিয়া এম ই মাদ্রাসা,জুনিয়র স্কুল,হাইস্কুলে উনার অবদান অনস্বীকার্য। নিবেদিতপ্রাণ এই মহান ওলী ও মন্ত্রী আব্দুর রশীদ চৌধুরী ১৯৬২ সালের ১২ই সেপ্টেম্বর ইন্তেকাল করেন।(কারোও মতে ১৯৬৪ সালে উনার মৃত্যু হয়।) উনার কবর নিজবাড়ির পাশে অবস্থিত।

সূত্রঃ ডাঃ মুহিত আহমদ চৌধুরী(মিনিস্টার সাহেবের প্রিয়ভাজন), সালমা চৌধুরী (মিনিস্টার সাহেবের নাতনি)।

Please follow and like us:
error